| ছবি: মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পৃথক দুটি স্থানে এই ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তিরা হলেন—একই ওয়ার্ডের দুলাইপাড়া এলাকার পাথর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন (৩৮) এবং ফকিরা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল শিকদার (৩১)। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ফতেপুর ইউনিয়নের দুলাইপাড়া এলাকার সুলতান মেম্বারের বাড়ির মোহাম্মদ জাকের আহম্মদের দ্বিতীয় পুত্র। তিনি পেশায় একজন পাথর ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ভবন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পাথর সরবরাহ করতেন। তাছাড়া বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। অন্যদিকে, মোহাম্মদ জুয়েল শিকদার একই ওয়ার্ডের ফকিরা মসজিদ এলাকার ওমর আলী শিকদার বাড়ির মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের দ্বিতীয় পুত্র। ২০০৪ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় জুয়েলের একমাত্র বড় ভাই সোহেল নিহত হওয়ার পর আজ জুয়েলকেও হারিয়ে পরিবারটি নির্বাক হয়ে পড়েছে। জয়নাল আবেদীনের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আরমান জানান, ব্যবসার কারণে জয়নালকে প্রায়ই নির্ঘুম রাত কাটাতে হতো। আজ সকালে হঠাৎ তার ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে স্বজনরা ছুটে যান। তখন জয়নালের বুক প্রচণ্ড ধড়পড় করছিল এবং তীব্র বমি বমি ভাব ও কয়েকবার তিনি বমি করেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি গভীর ঘুমের মতো অস্বাভাবিক শব্দ করছিলেন। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার ইসিজি (ECG) করান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ আছর নামাযের পর স্থানীয় ঈদগাহে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, জুয়েল শিকদারের প্রতিবেশী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ফয়সাল জানান, জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অন্যান্য গুরুতর রোগীদের দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই ভয়ের কারণে গতকাল মঙ্গলবার সকালেই চমেক হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে তিনি বাড়ি চলে আসেন। বাড়ি ফেরার পর বিকেলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বুধবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ আছর নামাযের পর ফকিরা মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। একই ওয়ার্ডের দুই তরুণের এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে ফতেপুর ইউনিয়ন জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।