প্রকাশ :: ... | ... | ...

হাটহাজারীতে মির্জাপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন নূর খালেক শহীদ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নির্যাতন এবং নির্বাসন কাটিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জামায়াত নেতা নূর খালেক শহীদ। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি জনসেবার লক্ষ্য নিয়ে ময়দানে নামার এই সংকল্প ব্যক্ত করেন। নূর খালেক শহীদ মির্জাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আহমেদ উর রহমান বাড়ির আলহাজ্ব নূর মিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নূর খালেক শহীদ তার বিগত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি ২০১১ সালেই চেয়ারম্যান পদে লড়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক জটিলতায় সরে দাঁড়াতে হয়। ভেবেছিলাম পরের বার লড়ব, কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সেই সুযোগ আর আসেনি। তিনি আরও জানান, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে প্রথম রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের মে মাস পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে তাকে ২২টি মিথ্যা মামলার আসামি করা হয়। অবর্ণনীয় নির্যাতন ও আইনি হয়রানি থেকে বাঁচতে একপর্যায়ে তিনি নিজের স্থাবর-অস্থাবর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেশত্যাগে বাধ্য হন। নূর খালেক শহীদের দাবি, এই প্রতিহিংসার রাজনীতি আমার জীবনের মূল্যবান ১৫টি বছর কেড়ে নিয়েছে এবং আর্থিকভাবে আমি প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। বর্তমানে এসব মামলা খারিজের প্রক্রিয়া চলছে। লন্ডন প্রবাসী হওয়ার পাশাপাশি ওমানে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত নূর খালেক শহীদ শিক্ষাগত জীবনে ভারতের জয়পুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাস্কাট ক্যাম্পাস থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। প্রবাস জীবনেও তিনি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। ওমান বন্ধু সমাজের মাবেলা জোন সভাপতি এবং লন্ডনের ম্যাকাস ফিল্ড ইসলামিক ফোরাম ইউরোপের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি 'আল নূর ফাউন্ডেশন' এর মাধ্যমে সমাজসেবা অব্যাহত রেখেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচনী মাঠে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত দিনে হারানো সময় ও সম্পদ ফিরে পাওয়ার চেয়েও আমার কাছে বড় লক্ষ্য হলো মির্জাপুরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আমি এলাকার উন্নয়ন ও ইনসাফ কায়েমে বদ্ধপরিকর। তিনি আরো বলেন, আমি যদি অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই, তবে আমার সর্বপ্রথম কাজ হবে জুয়াখেলা, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর তৎপরতা চালানো। বিশেষ করে বর্তমান সমাজের বিষফোড়া ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার নির্মূল করতে চাই। আমি এই ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটিকেই সমাজ থেকে বদলে দিতে চাই এবং তরুণ প্রজন্মকে গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে চাই। দীর্ঘদিন পর এলাকায় তার এই সক্রিয়তা এবং নির্বাচনী ঘোষণা সাধারণ স্থানীয় মান্যগণ্য মানুষ গুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিগত সময় গুলোতে কর্মহীন ও অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সহযোগিতা ছিলো সবচেয়ে বেশি। ম হা মা রী ক রো না'র সময় তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় (খাদ্যসামগ্রী) ভালবাসার উপহার পাঠিয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে তার সম্পৃক্ততা এবং সহযোগিতা খুবই আন্তরিক। এককথায় তিনি জনগণকে মন থেকে আগে যেমন ভালবেসেছেন এখন তেমন ভালবাসেন।