ভারতে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্তকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এই বর্বরোচিত সহিংসতার প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশাল প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে উপজেলা হেফাজতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মাওলানা এমরান সিকদার ও মাওলানা কামরুল ইসলাম। আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তার বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে নির্বাচন পরবর্তী এই সহিংসতায় উগ্রপন্থি বিজেপি সমর্থকরা সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর উস্কানিমূলক বক্তব্য মুসলমানদের ওপর হামলার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে হামলাকে জায়েজ ঘোষণা করার মতো বক্তব্য কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। হেফাজত আমীর বাংলাদেশ সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারতের মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতনের ঘটনায় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানাতে হবে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একইসাথে তিনি ভারত সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আরেকটি রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টির আগেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা মো. ঈসা, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা জমির উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাসউদ আলম চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আসাদুল্লাহ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হাটহাজারীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলার মানুষ আর ভারতের চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি গ্রহণ করবে না এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলিম নির্যাতনে রাজপথে সোচ্চার থাকবে।