আসন্ন হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। এই নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তরুণ ও ত্যাগী নেতৃত্বের সন্ধানে থাকা ভোটারদের মুখে এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন মো. মনিরুল আলম জনি। জানাযায়, মনিরুল আলম জনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম উত্তরজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজপথে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মুখ। বর্তমানে তিনি হাটহাজারী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও খুব পরিচিত। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ তাঁকে জনপ্রিয়তার দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। রাজনৈতিক মহলে তিনি ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দলের কঠিন সময়ে হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেতার প্রতি স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের বিশেষ সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মনিরুল আলম জনি বলেন, আমাদের অভিভাবক, জননেতা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের নেতৃত্বে রাজপথে দুঃসময়ে ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দলের জন্য নিবেদিত থাকতে গিয়ে বারবার জেল-জুলুম ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি, তবুও নেতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। আমার অভিজ্ঞতা বলতে গেলে বলতে হয়ে বিগত ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পরবর্তী জরুরি শাসন আমলে হাটহাজারী কলেজ গেট এলাকায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রতীকী অনশন চলাকালীন সেনাবাহিনী আমাকে তুলে নিয়ে যায়। সে সময় দীর্ঘক্ষণ আমার ওপর চালানো হয় অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পরবর্তীতে, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের প্রতিবাদে ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে দেশব্যাপী যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার অংশ হিসেবে ৭ই জানুয়ারি হরতাল পালনকালে হাটহাজারীর ইছাপুর রাজপথ থেকে আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়। সেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আমাকে দীর্ঘ ৩ মাস ১৯ দিন কারান্তরালে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ আর অমানবিক নির্যাতন আমার আদর্শকে বিন্দুমাত্র দমাতে পারেনি। বরং প্রতিটি আঘাত আমাকে জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসই আমার রাজনীতির আসল শক্তি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, আমার নেতা যদি অনুমতি প্রদান করেন এবং হাটহাজারীর সর্বস্তরের জনসাধারণ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে উপযুক্ত মনে করেন, তবেই আমি নির্বাচনে অংশ নেব। জনগণের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে একটি আধুনিক ও উন্নয়নশীল হাটহাজারী গড়ে তোলাই হবে আমার মূল প্রয়াস। দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে জনির শক্তিশালী একটি কর্মী বলয় রয়েছে। ক্রীড়া সংস্থার সাথে জড়িত থাকায় স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও যুবসমাজের কাছেও তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি নির্বাচনের মাঠে চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন কি না।