শিরোনামঃ

হাটহাজারীতে মহাসড়কে বালির পাহাড়, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে যানবাহন

মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যস্ততম মহাসড়ক দখল করে বালুর স্তূপ রাখায় যান চলাচল মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের আলাওল দীঘির দক্ষিণ পাশে মহাসড়কের ওপর বিশাল বালুর পাহাড় তৈরি করায় হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সড়কের একপাশ দখল হয়ে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটহাজারী-অক্সিজেন মহাসড়কের ওই নির্দিষ্ট অংশে বালুর বিশাল স্তূপ রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে আছে। এর ফলে সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুতগামী বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো সেখানে এসে আকস্মিক বাধার মুখে পড়ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে এই বালুর স্তূপ মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক সময় সড়ক বা ফুটপাতে নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেলেও বর্তমানে তা সম্পূর্ণ বন্ধ। প্রশাসনের এই নীরবতার সুযোগে প্রভাবশালী চক্র ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী দেদারসে ইট, বালু ও পাথর মহাসড়কের ওপর স্তূপ করে রাখছে।

কেবল ফতেপুর নয়, হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়ক ছাড়াও নাজিরহাট ও রাউজান মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশ জুড়ে বালু ও নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে, যা নিয়ম অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

ভুক্তভোগী এক বাস চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে এমনিতেই প্রচুর গাড়ি চলে। তার ওপর রাস্তার ওপর বালুর পাহাড় রাখায় আমাদের পাশ কাটানো কঠিন হয়ে পড়ে। বালু বাতাসে উড়ে চাকার নিচে পড়লে গাড়ি পিছলে যাওয়ার ভয় থাকে। দেখার যেন কেউ নেই।"

সচেতন মহলের মতে, দ্রুত এসব অবৈধ স্তূপ অপসারণ না করলে সড়কটিতে বড় ধরনের যানজট ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তারা অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। সাধারণ পথচারীদের প্রশ্ন—একটি জাতীয় মহাসড়ক এভাবে দিনের পর দিন দখল হয়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কেন নির্বিকার?

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL