শিরোনামঃ

দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য প্রতিদিন সংগ্রাম করেন প্রতিবন্ধী ইব্রাহিম

শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

রাউজান 
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অনেক সময় মানুষের জীবনের গতি থামিয়ে দেয়। কিন্তু চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেই বাস্তবতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছেন। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও কারও কাছে হাত না পেতে নিজের পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। প্রতিদিন রাস্তার ধারে বসে কলা বিক্রি করেই চালাচ্ছেন তার চার সদস্যের সংসার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাউজান উপজেলার গহিরা চৌমুহনী এলাকায় চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মহাসড়কের পাশে একটি ছোট ভাসমান দোকান বসিয়ে কলা বিক্রি করছেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তার পাশে বসে পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় মানুষের কাছে কলা বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিনের এই সামান্য আয়ই তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস।
ইব্রাহিমের পরিবারে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। তারা স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করে। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। সংসারের খরচ, সন্তানদের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাকে প্রতিদিনই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তবুও দারিদ্র্য আর শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তিনি জীবনের কাছে হার মানতে দেননি।
কথা হলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও কখনো কারও কাছে হাত পাততে চাইনি। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে, তারা স্কুলে পড়াশোনা করে। তাদের মানুষ করার স্বপ্ন আছে আমার। তাই প্রতিদিন এই রাস্তার পাশে বসে কলা বিক্রি করি। সারাদিনে যে সামান্য টাকা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চালাই। কষ্ট অনেক, কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সব কষ্ট সহ্য করে কাজ করে যাচ্ছি।”
জানা গেছে, মোহাম্মদ ইব্রাহিম রাউজান উপজেলার গহিরা এলাকার পেলা গাজী চৌধুরী বাড়ির মৃত ইসহাকের ছেলে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো ভিক্ষাবৃত্তি বা অন্যের দয়ার ওপর নির্ভর করতে চাননি। নিজের পরিশ্রমের উপার্জনেই পরিবারের ভরণপোষণ করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইব্রাহিম একজন সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তার পাশে বসে কলা বিক্রি করেন। তার এই আত্মসম্মানবোধ ও পরিশ্রমী মানসিকতা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
তবে এলাকাবাসীর মতে, ইব্রাহিমের মতো অসহায় ও সংগ্রামী মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সামান্য সহযোগিতা পেলে হয়তো তার জীবনসংগ্রাম কিছুটা সহজ হবে এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথও আরও সুগম হবে।
প্রতিবন্ধকতা কিংবা দারিদ্র্য-কোনোটিই মোহাম্মদ ইব্রাহিমের জীবনের ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সীমাহীন কষ্টের মাঝেও তিনি প্রমাণ করে চলেছেন—পরিশ্রম আর আত্মসম্মান থাকলে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকা যায়।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL