চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় রিজিয়া বেগম নামে এক বিধবা নারীর বসতঘর দখলের চেষ্টা ও তারই স্বজন নুরুল হুদা সুজনকে পুলিশের উপস্থিতিতে ঘুষি এবং চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে পুনরায় মারধরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কেরানীহাটে অবস্থিত সী ওয়ার্ল্ড রেস্টুরেন্টের হলরুমে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় ভুক্তভোগী রিজিয়া বেগমের পক্ষে তারই স্বজন এবং আহত নুরুল হুদা সুজনের বোন সালমা বেগম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আহত নুরুল হুদা সুজনের বাবা আব্দুল মাবুদ, বাকপ্রতিবন্ধী মা হোসেন আরা বেগম ও অপর বোন সুমি আক্তারসহ প্রমুখ।
সালমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সাতকানিয়া পৌরসভার রামপুর মৌজায় রিজিয়া বেগমের স্বামীর পৈতৃক চার শতকের বেশি জায়গা রয়েছে। উক্ত জায়গাটি বর্তমানে ইকবাল গং এর দখলে আছে। এদিকে রিজিয়া বেগম ইকবাল গং এর মালিকানাধীন দুই শতক জায়গায় বসবাস করছেন৷ রিজিয়া বেগমের দেবরের ছেলে আলী আকবর মিনহাজ ওই জায়গাটি তাদের দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক তাকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরের (২৮ জুন) রাতে মিনহাজের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন রিজিয়া বেগমের বসতঘরে হামলা চালায়। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত তার বসতঘরের সামনে দলবল নিয়ে শোডাউন দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। ওই সময় কেউ প্রতিবাদ করলে মিনহাজ তাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, মারধর ও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। গত (৩ মে) মিনহাজ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করলে এসআই বেলালের তত্ত্বাবধানে থানায় একটি বৈঠক হয়। মিনহাজ ওই বৈঠকে আমার ভাই নুরুল হুদা সুজনকে ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।
সালমা বেগম বলেন, আহত অবস্থায় আমার ভাই সুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মিনহাজ সেখানেও দলবল নিয়ে যায়। পরে তিনি চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে সাতকানিয়া কালীমন্দির এলাকায় পৌঁছালে মিনহাজের নেতৃত্বে ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি দল পুনরায় তাকে মারধর করে শহীদ মিনারের সামনে ফেলে রেখে যায়। এসব ঘটনায় বর্তমানে রিজিয়া বেগমের ও আমাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই ঘটনাটি তদন্তপূর্বক মিনহাজের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
অভিযুক্ত আলী আকবর মিনহাজ বলেন, থানার মধ্যে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। ওই সময় এবং পরবর্তীতে আমি কাউকে মারধর করিনি। তারা উল্টো আমার পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। আমি দীর্ঘ সময় বাড়ি ছাড়া ছিলাম এবং তারা ২০২৩ সালে আমাকে মারধর করেছে। আর এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, উভয় পক্ষ সাধারণ ডায়েরির (জিডি) দায়ের করেছিল। তারই প্রেক্ষিতে দু'পক্ষের লোকজন থানায় এসেছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে মিনহাজ একজনকে ঘুষি মেরেছিল। পরে তারা থানা থেকে চলে যায় এবং বাইয়ে গিয়ে পুনরায় মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি চলতি মাসের ৬ তারিখ সাতকানিয়া থানায় যোগদান করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।