শিরোনামঃ

শেষ মুহুর্তে চকরিয়ায় জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট, ক্রেতাদের ভীড়

এম.মনছুর আলম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: এম. মনছুর আলম
ছবি: এম. মনছুর আলম

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ আর তিন পরে অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ২২টি কোরবানি পশুর হাট শেষ মুহুর্তে পুরোদমে জমে উঠেছে। সবচেয়ে গরুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে পশ্চিম বড় ভেওলাস্থ বৃহত্তম ইলিশিয়া কোরবানি পশুর হাট ও পৌরসভার মগবাজার। সপ্তাহের নির্ধারিত বার অনুযায়ী হাট বসে। এই কোরবানি হাটে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থান থেকে গাড়ি যোগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাজারে গরু আসতে শুরু করে। ওই পশুর হাটে স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি এসব গরু চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন প্রান্তে।

সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারেও পশুর হাট জমে উঠেছে 
বেতুয়া বাজার, রসিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (অস্থায়ী বাজার), ইলিশিয়া গরুর বাজার, চকরিয়া পৌরসভার বাসটার্মিনাল, ঘনশ্যাম বাজার, মগবাজার কমিউনিটি সেন্টার মাঠ, ডুলাহাজারা বাজার, খুটাখালী, একতা বাজারসহ অন্তত ২২টির মতো কোরবানীর পশুর হাট। এসব কোরবানি পশুর হাটে মাঝারি সাইজের এক একটি গরু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার এবং বড় সাইজের গরু বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। গরুর পাশাপাশি এই হাটে রয়েছে মহিষ ও বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল আর ভেড়া। একেকটি বড় আকারের খাসি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। অন্যান্য বাজারের তুলনায় ইলিশিয়া বাজারে এবারও সবচেয়ে বড় সাইজের গরু দেখা মেলেছে বেশ কয়েকটি। সরকারি নির্দেশনা মেনে হাট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবী করেছেন বিভিন্ন বাজার ইজারাদারেরা।
সরকারি বিধি অনুসরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা কোরবানির হাট পরিচালনায় চেষ্টা করছি। স্বেচ্ছাসেবক ও পশু বিক্রেতাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সকলকে মাইকিং করে বলা হচ্ছে। তবে, হাট-বাজারে আসা বিভিন্ন গরু, ছাগল পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কোন ধরণের কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।
ইলিশিয়া কোরবানি পশুরহাটে গিয়ে কথা হয় পূর্ব বড় ভেওলার এলাকার পশু পালনকারী আবুল কাসেমের সাথে। তিনি জানান, ২ বছর ৩মাস বয়সের একটি ষাড় গরু বাজারে এনেছেন। গরুটির ওজন প্রায় ৪শত ৫০ কেজি বলে দাবী করছেন। গরুর দাম দেন সাড়ে ৫লক্ষ টাকা। ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হলেই তিনি বিক্রি করবেন। কয়েকজন ক্রেতা ৪ লক্ষ ৬০ হাজার পর্যন্ত দর উঠেছে। 
পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকার নুরুল ইসলাম জানান, তিনি কোরবানির জন্য গরু দেখতে এসেছেন, দামে পোষালে আজই কিনবেন। তবে ইলিশিয়া এই পশুর হাট খুবই পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী একটি বাজার। এখানে বিভিন্ন আশপাশের এলাকা থেকে নানা ধরনের গরু নিয়ে  আসেন বিক্রি করতে। তাই অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও গরু ক্রয় করতে ছেলে ও নাতি নিয়ে আসা। দাম অন্যান্য বাজারের চেয়ে তুলনামূলক একটু কম।

মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, ইলিশিয়া বাজারটি একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। বৃটিশ আমলে এই বাজারটি  প্রতিষ্ঠা করেন। ঐতিহ্যবাহী বাজারটি ঘিরে এতদ্বঞ্চলের গরীব কৃষকদের মধ্যে গরু লালন পালনের উৎসাহ সৃষ্ঠি হয়। যার কারণে প্রায় ঘরে ঘরে গরু লালন পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, নবসৃষ্ট মাতামুহুরী উপজেলার  পশুর এই হাট ছাড়া বড় ধরণের আর কোন হাট নেই। ইলিশিয়া বাজারের পশুর এ হাটটি গ্রামের মানুষের বাড়ির পাশে হওয়ায় গরু বেচা-বিক্রি করতে সুবিধা হয়। যা মানুষের এখানকার মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে চাঙ্গা হয়ে যাচ্ছে এবং গরীব কৃষকেরা পশু পালনে দিন দিন স্বাবলম্বী হতে চলছে। প্রশাসনের নির্দেশনা মতে বাজার ইজারাদার কোন ধরণের বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশের বিঘ্ন সৃষ্ঠি না হয় সে ভাবে বাজার পরিচালনা করার জন্য প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেন। তবে কোরবানি সময়ে বিদ্যালয়ের শর্ত সাপেক্ষে খেলার মাঠে তিনদিন পশুর হাট বসানো হয় বলে তিনি জানান।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনির হোসেন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে আইন শৃংখলা রক্ষার্থে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে রয়েছে। যাতে বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন নির্বিগ্নে ও নিরাপদে কোরবানি পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক বাজার পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, প্রশাসনের নির্দিষ্ট ইজারা দেয়া পশু হাট ব্যতীত নতুন কোনো পশু হাট বসানো যাবে না। এছাড়া সড়ক ও মহাসড়কের ওপরে কোন পশুর হাট বসানো হলে তা সরিয়ে নেয়া হবে। প্রতি হাটে মোবাইল কোর্ট যাবে। কেউ আইন অমান্য করলে তাকে জরিমানার আওতায় আনা হবে। 

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL