সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী থেকে পাহাড়ের মানুষের আস্থার বাতিঘর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শুধু সীমান্ত পাহারাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় "বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" এই যুগান্তকারী প্রতিপাদ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) বাঘাইছড়ির দুর্গম পাহাড়ে ভালোবাসা ও উন্নয়নের পরশ বুলিয়ে দিয়েছে।
অদ্য ০৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মারিশ্যা জোনের দায়িত্বপূর্ণ কমলাপাড়া, হারিনাছড়া এবং ওল্ডলংকর পাড়া এলাকায় বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপণ ও স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করা হয়। সবুজে ভরে উঠুক পাহাড়, প্রাণ ফিরে পাক প্রকৃতি এই মহৎ উদ্যোগে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়।
পরে কমলাপাড়া এলাকায় জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে দুইজন অসহায় বাসিন্দাকে সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় (১) জুলিয়ে কারবারি, পিতা- মলয় চাকমা, গ্রাম- কমলাপাড়া'কে স্বাবলম্বী করতে ০১টি সেলাই মেশিন এবং (২) অঞ্জনা দেবী, স্বামী- অন্তয় চাকমা, গ্রাম- কমলাপাড়া'কে আর্থিক সচ্ছলতার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
এ সময় মারিশ্যা জোনের সুযোগ্য জোন কমান্ডার স্থানীয় হেডম্যান, কারবারিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আন্তরিক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে আয়োজিত উক্ত সভায় প্রায় ৫০-৬০ জন পাহাড়ি নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে জোনের অধীনস্থ ওল্ডলংকর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আরও দুইজনকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়। (১) অঞ্জলি পাংখোয়া, স্বামী- লালতোয়া পাংখোয়া, গ্রাম- ওল্ডলংকর'কে ০১টি সেলাই মেশিন এবং (২) অংকু পাংখোয়া, পিতা- প্রিয়ধন পাংখোয়া, গ্রাম- ওল্ডলংকর'কে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) এর জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি বলেন, বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পাহাড়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শান্তি ও সম্প্রীতির এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।