শিরোনামঃ

চিকিৎসকের অনিয়মে অতিষ্ঠ উপজেলা বাসী‘ম্যাডাম’ না বললে মিলছেনা চিকিৎসা

গুইমারা প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়ায় অবস্থিত ইসলামিক মিশনের প্রধান মুনমুন সুলতানার বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে অসদাচরণ, চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম, কর্মচারী ও স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, স্বামী-স্ত্রী একসাথে দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী, তার স্বামী সরকারি দায়িত্বে অবহেলা এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত গুচ্ছগ্রামের রাস্তা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মুনমুন সুলতানান অপসারণসহ সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসলামিক মিশনে যোগদানের পর থেকেই  চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে মুনমুন সুলতানার আচরণ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।  কয়েকজন রোগীর দাবি, অন্য কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ বা চিকিৎসাপত্র নেওয়ার পর মিশনে গেলে পরবর্তীতে তাঁকে চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করা হয়। এমনকি তাঁকে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন না করলে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় অনেকে। 
স্থানীয় লুৎফর রহমান বলেন- দীর্ঘদিন ধরে আমার পায়ের সমস্যা আমি তাহার কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাহাকে মা বলে সম্মোধন করি। ম্যাডাম না বলে মা বলায় তিনি আমার উপর ক্ষেপে যান। অথচ আমি তার বাবার বয়সী। আমাকে তিনি জনসম্মুকে অপমান করেন এরপর থেকে আমি আর মিশনের চিকিৎসা সেবা নিতে যাই না। 

এছাড়াও স্থানীয় রহিমা বলেন- আমি আমার মেয়েকে নিয়ে ইসলামী মিশনের চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে ম্যাডামকে আপা বলে সম্বোধন করি। তখন তিনি আমাকে ম্যাডাম না বলায় রুম থেকে বের করে দেন আমাকে কোন চিকিৎসা সেবা দেননি। 

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মিশনের কর্মচারীদের সঙ্গেও ওই কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে একটি সরকারি টিকিটের পরিবর্তে একাধিক টিকিট কিনতে বাধ্য করা হয়—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ইসলামিক মিশনের নিজস্ব জায়গায় ১৯৮৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করার পর থেকেই সেখানে বসবাসকারী মানুষের চলাচলের জন্য একটি রাস্তা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে ব্যবহৃত ওই রাস্তা সম্প্রতি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি রাস্তা বন্ধের জন্য শ্রমিক দিয়ে কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
তাঁদের অভিযোগ, এর আগেও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের রোপণ করা কলা বাগান কাটাসহ বিভিন্ন ঘটনায় মামলা দিয়ে সাধারণ ও অসহায় মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। এসব ঘটনারও তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।
ইসলামিক মিশনের প্রধান ও তাঁর স্বামী একই সরকারি প্রতিষ্ঠানের একই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন— স্বামী ইসলামিক মিশনের মাটিরাঙ্গা ও লক্ষীছড়ি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।  স্বামী- স্ত্রীর বিষয়টি নিয়োগবিধি ও কর্মস্থলসংক্রান্ত নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যথাযথ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এছাড়াও 
ইসলামিক মিশনের প্রধান মুনমুন সুলতানার বিরুদ্ধে স্থানীয় কয়েকজন আলেমের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
মাওলানা ফারুকুল ইসলামের ভাষ্যমতে- বিগত সময়ে ইসলামিক মিশনের প্রধান মুনমুন শুলতানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নি পরিচয় দিয়ে জালিয়াপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি নোমান সাহেব সহ  এলাকার অনেক আলেমকে তিনি অপমান অপদস্থ করেছেন। যাহার সাক্ষী স্থানীয় নেতা কর্মীরা। 
তাঁদের ভাষ্য, ইসলামিক মিশনের মতো একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির কাছ থেকে রোগী, কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।
উত্থাপিত অভিযোগগুলো দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানান তাঁরা।

এলাকাবাসী জানান, তাঁদের দাবির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসলামিক মিশনের প্রধান মুনমুন বলেন- আমরা সরকারি কর্মকর্তা নিউজের ধার ধারিনা।  যেসব অভিযোগ আগেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে আমি এখন আর এসব বিষযে বক্তব্য দিবোনা। আর আমার উর্দ্বোতন কর্মকর্তার পারমিশন ছাড়া বক্তব্য দিতে পারবোনা। আপনারা অভিযোগমূলে নিউজ করেন সমস্যা নাই। 

এ বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিশকাতুল তামান্না'র নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং এ মুনমুন সুলতানাকে অত্র ইসলামিক মিশন থেকে অপসারন করা হোক।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL