শিরোনামঃ

নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩ সন্তানের জনক অপহরণ করল ২ সন্তানের জননীকে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে উদ্ধার,আটক-২

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

শুক্রবার(৮ মে) ২০২৬ খ্রী: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে চাঞ্জল্যকর নিখোঁজ গৃহবধুকে অপহরণের ১২ ঘন্টার মধ্যে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়। একই সাথে পাচার চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫।

র‌্যাব-১৫ সুত্র জানায়, তারা  কক্সবাজার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানা হতে নিখোঁজ হওয়া এক গৃহবধুকে (২৩) অপহরণ করে একটি চক্র। চক্রটি অপহরণ করেন তাদের নিয়ে যায় কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের একটি আবাসিক হোটেলে। ে অভিযোগ পেয়ে তারা অপহরণকারী চক্রের প্রধানের মোবাইর ফোন টেকিং এ দেন। জানতে পারেন কোথায় আছে। পরে অভিযান চালায়।
অপহৃত গৃহবধুর স্বামী পক্ষ জানায়, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে গৃহবধু অপহৃত হন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে । পরে তারা  র‌্যাব-১৫ কে অবহিত করেন। এরই ভিক্তিতে তারা  কক্সবাজার সদর থানাধীন কলাতলী সংলগ্ন 'হাইপ্রিয়ান সীপাল' আবাসিক হোটেলের ৬/সি নম্বর রুমে অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে নিখোঁজ ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে র‌্যাব। একই সাথে  ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ২ জন অপহরণকারীকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করে তারা। এ সময় পাচার কাজে ব্যবহৃত ১টি নোহা মাইক্রোবাস (রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৫৩২৩) জব্দ করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো:
শামসুল আলম (৩৩), পিতা- ছুরত আলম, সাং- দক্ষিণ ফাক্রিকাটা (৫নং ওয়ার্ড), ইউনিয়ন- কচ্ছপিয়া, থানা- রামু, জেলা- কক্সবাজার। সে ৩ সন্তানের জনক ও সিএনজি চালক। সেই গৃহবধুকে বিয়ের প্ররোভন দিয়ে নিয়মিত হোটেলে নিয়ে যেতো। পাশাপাশি তার বাড়িতে থাকা স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতো বলে
স্থানীয় সুত্র গুলোর অভিযোগ।

অপরজন হলো: ড্রাইভার শাহ আলম (৩৪), পিতা- মমতাজ আহমেদ, সাং- ঘাটপাড়া খুরুলিয়া (০৮নং ওয়ার্ড), ইউনিয়ন- ঝিলংজা, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।

র‌্যাব-১৫ সুত্র আরো জানান,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পারেন, গ্রেফতারকৃত আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। তারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে চালক শাহ আলমের মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করে তারা দুর্গম এলাকা থেকে ভিকটিমদের কৌশলে অপহরণ করে পর্যটন এলাকায় নিয়ে আসত। সাধারণ জনগণের নিকট তারা ভদ্রবেশী হলেও পর্দার আড়ালে তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য, যারা মূলত অসহায় নারী ও তরুণীদের টার্গেট করে পাচার বা অনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করত। তাদের এহেন কর্মকাণ্ডে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজমান ছিল।
উল্লেখ্য যে, ২ সন্তানের জননী ভিকটিম মুন্নী(৩০)  নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ইতিপূর্বে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। অভিযোগ প্রাপ্তির মাত্র ১২ ঘন্টার ব্যবধানে এই শ্বাসরুদ্ধকর  অভিযানে গৃহবধুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় তারা।
উদ্ধারকৃত ভিকটিম এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে জব্দকৃত আলামতসহ কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জনস্বার্থে র‌্যাব-১৫ এর এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরে আসামীদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়।
থানায় মামলা করেন অপহৃত গৃহবধু মুন্নী (৩০)। মামলার পর আসামীদেন বান্দরবান আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি তদন্ত মুহাম্মদ আকরাম উল্লাহ।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL