মহেশখালীর ধানক্ষেতে মিলল জালাল নামক ব্যক্তির নিথরদেহ; উদ্ধার করল পুলিশ। পরিবারের দাবী পরিকল্পিতভাবে হত্যা। এতে স্বাভাবিক জীবন যাপনে শঙ্কায় ভোগছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী উত্তর সিপাহীর পাড়ার পূর্ব পাশে বড় বিল এলাকাস্থ ধানক্ষেত থেকে জালাল উদ্দীন (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় আব্দু সামাদ নামে এক তরুণ পানের বরজে যাওয়ার সময় ধানক্ষেতে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। অতঃপর অজ্ঞতানামা পড়ে থাকা লাশটি বিষয়ে জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে মহেশখালী থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। লাশ শনাক্ত করে জানা যায় নিহত ব্যক্তি ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ কুল এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে নিহতের মা এবং সহোদরের দাবী, গত বুধবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে জালাল বাড়ি থেকে উত্তর সিপাহীর পাড়া বড় বিল এলাকায় ঘুরতে আসেন। সেখানে অপরিচিত দুই যুবক তাকে জিম্মি করে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তার গর্ভধারিণী মা' ৫হাজার টাকার বিনিময়ে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে আসার একপর্যায়ে নিহত জালাল তার মাকে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। পরে মা বাড়িতে ফিরে গেলে জালালের আর কোনো খোঁজ খবর মিলেনি। পরিবারের ধারণা ছিল, তিনি হয়তো শ্বশুরবাড়িতে গেছেন। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে এখনো মৃত্যুর আসল রহস্য উৎঘাটন হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছেন, নিহত জালালের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষ করে, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর রহস্য বেরিয়ে আসবে। এমন ন্যাক্করজনক ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যসহ ঘটনার সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। তবে এমন ঘটনা যেন কারো আত্মীয়-স্বজনে কপালে না ঘটে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট নিরপেক্ষ তদন্তের মধ্যে আসল রহস্য বের করে অপরাধিদের শাস্তি জোর দাবী জানান।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুস সুলতান বিষয়টি খুবই মর্মহত। তিনি জালালে পরিবারে দাবীর ওপর গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছেন।