চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খুনি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশের জোরালো অভিযানের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রত্যাশিত দাগী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ; বরং সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, আসামি ধরার নামে পরিচালিত চেকপোস্ট কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে গণহারে চাঁদাবাজিতে পরিণত হয়েছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সড়কে চলাচলরত গাড়িচালক ও যাত্রীরা। বিষয়টি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ ও উদ্বেগ।স্থানীয় সূত্র জানায়, রাউজান বজলুর রহমান সড়কের হাজিপাড়া, কদলপুর, নাতোয়ান বাগিচা, মীর বাগিচা, আশরাফ শাহ মাজার গেট, চিকদাইর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা, চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মহাসড়কের ঢালামুখ রাবার বাগান, গহিরা কুণ্ডেশ্বরী, শহীদ জাফর সড়ক ও দোস্ত মোহাম্মদ সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় প্রতিদিনই চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। এসব স্থানে যানবাহন থামিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাগজপত্র যাচাই ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কদলপুর এলাকার সিএনজি চালক নাজিম উদ্দীন বলেন, “বজলুর রহমান সড়কের পাহাড়তলি থেকে রাউজান ইউনিয়ন পর্যন্ত ৬-৭টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। প্রতিদিনই গাড়ি থামানো হয়। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নানা অজুহাতে সমস্যা ধরা হয়। এতে সময় নষ্ট তো হচ্ছেই, অনেক সময় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হয়। গত মঙ্গলবার সকালে ও রাতে দুই দফা গাড়ি আটক করে হেনস্তা করা হয়েছে।
একই অভিযোগ করেন সিএনজি চালক তাপস বড়ুয়া। তিনি বলেন, “মামলার ভয় দেখিয়ে অনেক সময় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।”
মোটরসাইকেল চালকরাও জানিয়েছেন, ঘন ঘন চেকপোস্টের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানির আশঙ্কা বাড়ছে। অফিসগামী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনের গাড়িও এ তল্লাশি থেকে রেহাই পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সন্ত্রাস দমন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। নিয়মিত চেকপোস্ট ও তল্লাশির মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেফতার জরুরি। কিন্তু এ কার্যক্রম যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে পরিচালিত না হয়, তাহলে তা জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পরিচালিত যেকোনো অভিযান জনবান্ধব হওয়া জরুরি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, “সন্ত্রাস দমনে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে। চেকপোস্টের কারণে সড়কে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তবে পুলিশের কাজ পুলিশকে করতে হবে।” তিনি গাড়ি থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম সম্প্রতি বদলি হয়ে কুমিল্লায় চলে গেছেন বলে জানা গেছে। ফলে বর্তমানে থানার নেতৃত্ব নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।