শিরোনামঃ

বেতন-ভাতা না পাওয়ার চাপ,রুমার বিআরডিবি মাঠ সংগঠক নিখোঁজের পর উদ্ধার! 

অংবাচিং মারমা
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় দীর্ঘ ১৫ মাস বেতন-ভাতা না পাওয়ায় আর্থিক ও পারিবারিক চাপে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) এক মাঠ সংগঠক নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

১৫ সেপ্টেম্বর সকালে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের কেরানীহাট বাস কাউন্টার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাঠ সংগঠকের নাম মৃত্যুঞ্জয় কুমার মণ্ডল। পরে তাকে রুমা থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জানা গেছে,গত শনিবার সকালে রুমা উপজেলার একটি পাড়ায় যাওয়ার কথা বলে কর্মস্থল থেকে বের হন মৃত্যুঞ্জয় কুমার মণ্ডল। এরপর তিনি আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে রুমা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকাশ চাকমা বিষয়টি জানিয়ে রুমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশ তার সন্ধানে তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের কেরানীহাট বাস কাউন্টার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে রুমা থানায় নিয়ে আসা হয়।

মৃত্যুঞ্জয়ের ভাড়া বাসার মালিক জোবেদা বেগম জানান,প্রায় ছয় বছর ধরে মৃত্যুঞ্জয় কুমার মণ্ডল পরিবার নিয়ে তার বাসায় ভাড়া থাকছেন। কয়েক মাস ধরে তিনি বাসাভাড়া পরিশোধ করতে পারছিলেন না। তবে হাতে টাকা থাকলে তিনি কখনো ভাড়া বকেয়া রাখতেন না। তিনি চাকরি করেন—এটুকু জানলেও দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়টি তাদের জানাননি বলে জানান তিনি।

বাসায় ফেরার পর মৃত্যুঞ্জয় কুমার মণ্ডল জানান, তিনি প্রায় ১৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাননি। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদেরও জানাতে পারেননি। বেতন না পাওয়ায় বাসাভাড়া, সন্তানের পড়ালেখার খরচ, মায়ের হাতখরচ, সংসারের ব্যয় ও নিজের যাতায়াত খরচ চালাতে গিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন।

মৃত্যুঞ্জয় বলেন,দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে না পারার চাপ থেকে একপর্যায়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজেই চলে যান। তাকে কেউ অপহরণ করেনি বা জোর করে কোথাও আটকে রাখেনি বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান,বিআরডিবির একটি প্রকল্পের আওতায় তিনি ঋণের কিস্তি আদায়ের কাজ করেন। তিনি সরাসরি সরকারি চাকরিজীবী নন। গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা কিস্তির অর্থের একটি অংশ থেকে তার সম্মানী দেওয়া হয়। কিস্তি আদায় কম হলে সম্মানীর পরিমাণেও প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন আয় না থাকায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে জানান।

এদিকে রুমা বিআরডিবি কার্যালয়ের পিয়ন পদে কর্মরত উবামং মার্মা বলেন, প্রকল্পের আওতায় কর্মরতদের বেতন-ভাতা নিয়মিত হয় না। অনেক সময় দুই-তিন মাস পর একবার সম্মানী পাওয়া যায়। স্থানীয় হওয়ায় কিছুটা সামলে চলতে পারছেন জানিয়ে তিনি বলেন,তিনিও জুলাই মাসে সর্বশেষ সম্মানী ভাতা পেয়েছেন। তার বেতন-ভাতা বিআরডিবির ইউসিসি প্রকল্পের আয় থেকে দেওয়া হয়। রুমা উপজেলায় প্রকল্পের আওতায় পাঁচজন কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরডিবির এক মাঠ সংগঠক বলেন,প্রকল্পভিত্তিকভাবে নিয়োজিত অনেক মাঠ সংগঠক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়ার সমস্যায় রয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বছরে মাত্র এক-দুই মাসের বেতন পাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়।

তিনি বলেন,প্রকল্পের আওতায় বিতরণ করা ঋণের কিস্তি ও সুদের টাকা আদায়ের ওপর মাঠ সংগঠকদের সম্মানী অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঋণের টাকা আদায়ের ওপরই তাদের জীবিকা নির্ভর করে। দীর্ঘদিন নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় অনেক কর্মীকে আর্থিক সংকট, পারিবারিক চাপ ও নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে রুমা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকাশ চাকমা বলেন, মৃত্যুঞ্জয় কুমার মণ্ডলের সম্মানী কিস্তি আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ কিস্তি আদায় না হলে সম্মানীর ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে। রুমা উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় পাঁচজন কর্মী কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

মৃত্যুঞ্জয় তার পারিবারিক সমস্যার বিষয়টি অফিসকে আগে অবহিত করেননি উল্লেখ করে প্রকাশ চাকমা বলেন,বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় অফিস কর্তৃপক্ষ আগে থেকে কিছু জানত না। তবে কাউকে অবহিত না করে কর্মস্থল থেকে চলে যাওয়া তার উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন,নিখোঁজ মৃত্যুঞ্জয় কুমার মণ্ডলকে কেরানীহাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে। তাকে থানায় এনে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL