১৯৯২ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৩ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন। কিন্তু সেটা বাস্তবে রূপ দেয়া সম্ভব হয় নি। এখনো বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা নাজুক। পৃথিবীর আর কোনো দেশে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা কোন মন্ত্রণালয় নেই। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে গেলে অবশ্যই umbrella method অনুসরণ করতে হবে অর্থাৎ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর, বিভাগ ও সংস্থা সবাইকে এক ছাতার নিচে আনতে হবে এবং সমন্বয় সাধন করতে হবে।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ! কি অদ্ভুত সিস্টেম এবং সিদ্ধান্ত! অথচ প্রাথমিক শিক্ষার সাথে মাধ্যমিক শিক্ষা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা এখনো পঞ্চম শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ পৃথিবীর উন্নত দেশে প্রাথমিক শিক্ষা ষষ্ঠ অথবা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। প্রাথমিক শিক্ষার স্তর নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের টানাটানি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পাইপলাইন মজবুত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো অন্তরায়।
নেপ বনাম জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড -
প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ।
অন্যদিকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, পেশাদার মানবসম্পদ তৈরি, এবং প্রাথমিক শিক্ষার সাথে জড়িত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পরিচালনা করা।
নিম্নে নেপ এর কার্যক্রম তুলে ধরলাম:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি, ইনডাকশন এবং বিভিন্ন মেয়াদি (যেমন ডিপিএড) পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া।একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং তা সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা করা।
এখানে উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে চালু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রশ্নের প্যাটার্ন নির্ধারণ করার দায়িত্ব পালন করছে নেপ।
তাহলে প্রশ্ন হলো, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কাজ?
তাই বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কারিকুলাম নয় বরং আগে Institutional reform জরুরি।
এ অবস্থায় আমার সুপারিশ:
১. প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হোক। প্রয়োজনে এই মন্ত্রণালয়ের প্রাসঙ্গিকতা পুনর্বিবেচনা করার আলাপ তোলা হোক।
২. প্রাথমিক শিক্ষা এবং মাধ্যমিক শিক্ষা একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা একীভূত করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ অথবা স্কুল শিক্ষা বিভাগ গঠন করা হোক।
৩. প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নির্ধারণ করা হোক।
৪. নেপ কে বিলুপ্ত করা হোক।
৫. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষাক্রম তৈরির জন্য পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হোক। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কে সকল ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা