বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ্যাড: দীপেন দেওয়ান এমপি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটি চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা ( মাসাস) কর্তৃক আয়োজিত সাংগ্রাই জলকেলি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ১২ টি জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
পার্বত্য মন্ত্রী আরও বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে যত জনগোষ্ঠি আছে সকলের জন্য শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়নে কোন বৈষম্য থাকবে না বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন।
দীপেন দেওয়ান বলেন, বিশাল ভোট দিয়ে আপনারা আমাকে বিজয়ী করেছেন। তিন পার্বত্য জেলার ( রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) সবগুলো আসন আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপহার দিয়েছি। আমরা সুষম উন্নয়নের কথা বলি। উন্নয়নের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামও পিছিয়ে থাকবে না।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে আমাদের সকলকে বৈষম্যর উর্দ্ধে এনে একটি জাতিসত্ত্বা দিয়েছিলেন যেখানে আমরা গোত্র, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকবো। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংধনু জাতির যে দর্শন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আজকে সাংগ্রাই উৎসবে তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এটি মারমাদের একটি উৎসব। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি পাহাড়ে জনপদের এ উৎসবে বাঙালী জনগোষ্ঠি আনন্দে, উল্লাসে অংশগ্রহণ করেছেন, এটি হচ্ছে বৈশিষ্ট্য। তার মানে রংধনু জাতি বাংলাদেশীদের বুঝিয়েছি। সবার আগে বাংলাদেশ। পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির ব্যবস্থা, জীবন যাপনের যে ভিন্নতা তা বাংলাদেশী হিসেবে তুলে ধরতে চাই একই ভাবে সারা পৃথিবীকে দেখাতে চাই পার্বত্যাঞ্চলের সংস্কৃতি কতটা সমৃদ্ধ কতটা বৈচিত্র্যময়।
এসময় মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থার ( মাসাস) সাংগ্রাই জল উৎসব কমিটির আহবায়ক পাইংচি মং মারমার সভাপতিত্বে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার একরামুল রাহাত, জেলা প্রশাসক নাজমা আশারাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব প্রমুখ বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
পুরানো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মারমা সম্প্রদায় পালন করে সাংগ্রাই জল উৎসব। এ জল উৎসবে শতশত মারমা তরুণ- তরুণী তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়ে এ উৎসবে অংশ নিয়েছিলো। জল উৎসবে অংশ নেওয়া তরুণ- তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটানো মাধ্যমে সকল দুঃখ গ্লানি বেদনাকে ধুয়ে মুছে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় এবং নিজেদের পছন্দের মানুষকে বেছে নেয়।
এ জল উৎসবের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই ও চাংক্রান পাতা উদযাপনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।