শিরোনামঃ

ঢালাও দরপতনে শেয়ারবাজারে বড় ধস, ১৪ কার্যদিবস পর ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটির নিচে

ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ৮৫ পয়েন্ট, ৩১৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন; সিএসইতেও বড় পতন, তবে বেড়েছে লেনদেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২২ জুন) দেশের উভয় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রায় সব খাতজুড়ে বিক্রির চাপ বাড়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এর ফলে প্রধান সূচক ৮৫ পয়েন্ট হারিয়েছে। একই সঙ্গে ১৪ কার্যদিবস পর ডিএসইতে লেনদেন নেমে এসেছে হাজার কোটি টাকার নিচে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তুলনায় দরপতনের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। এতে সার্বিক মূল্যসূচকে বড় পতন হলেও আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।

দিনের শুরুতে ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও লেনদেনের ১০ মিনিটের মধ্যেই চিত্র পাল্টে যায়। বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমে যায় এবং সূচক ঋণাত্মক অবস্থানে চলে যায়। লেনদেনের শেষ দেড় ঘণ্টায় বিক্রির চাপ আরও তীব্র হলে বাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা দেয়।

দিন শেষে ডিএসইতে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩১৯টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী, ভালো কোম্পানি বা ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৬টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে, কমেছে ১৭১টির। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৪টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৬৯টির। ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১৬টির দাম বাড়লেও ৭৯টির দর কমেছে। তালিকাভুক্ত কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়েনি; ২৮টির দাম কমেছে এবং ৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজারের এমন নেতিবাচক প্রবণতায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা থেকে ১২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা কম। এর মাধ্যমে গত ২ জুনের পর প্রথমবারের মতো ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে এলো।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল ফিড মিলসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এছাড়া শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় ছিল বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, রবি, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, এনসিসি ব্যাংক ও অ্যাপেক্স স্পিনিং।

অন্যদিকে, সিএসইতে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৬৭ পয়েন্ট কমেছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টির দাম বেড়েছে, ১৭৪টির কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ডিএসইর বিপরীতে সিএসইতে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL