চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক কবরস্থানে এক ব্যক্তির লাশ দাফনে কবর খননে গিয়ে প্রতিবেশীদের হামলার শিকার হয়েছেন মৃতব্যক্তির স্বজনরা।
এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি মামলা করলে অভিযুক্ত প্রতিবেশী মো. নুরুল ইসলাম (৫৬) নামে এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত নুরুল ইসলাম বরুমচড়া ইউনিয়নের দইয়া মাঝির নতুন বাড়ির মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র।
বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারকৃতকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
থানা পুলিশ ও মামলার সূত্র জানায়, গত শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের দইয়া মাঝির নতুন বাড়িতে এঘটনা ঘটে। ঘটনার দুইদিনপর থানায় মৃত ব্যক্তির পুত্র মো. ওসমান গনি (৪৯) বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেন।
মামলা সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার (১৯ জুন) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজী মনির আহমেদ। পরদিন সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে কবর খনন করতে গেলে আসামীদের জায়গা দাবী করে কবর খননে বাঁধা এবং হুমকি দেয়। উপস্থিত লোকজন তাদের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়া তারা। হামলায় মৃতব্যক্তি হাজী মনির আহমেদের পুত্র মো. ওসমান গনি (৪৯) ও কন্যা নার্গিস আক্তার (৪০) গুরুতর আহত হয়। এছাড়াও হামলায় তাদের স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে।
মামলার বাদী মো. ওসমান গনি বলেন, 'তারা সম্পর্কে আমার প্রতিবেশী। পিতা মৃত্যুর খবরটা সর্বপ্রথম তাকেই জানায়। আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থানে কবর খুঁড়তে গেলে নিজেদের জায়গা দাবী করে বাঁধা দেয় গ্রেপ্তারকৃত নুরুল ইসলাম। আমরা প্রতিবাদ করলে লোকজন নিয়ে এসে আমাদের মারধর করে। স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা প্রাণে রক্ষা পাই এবং পরবর্তীতে কবর খননের পর সেখানে দাফন করা হয়।'
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, 'ঘটনারপরই মৃত ব্যক্তির স্বজনরা থানায় মামলা করেন। মামলার এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্ঠা করছে পুলিশ।'