শিরোনামঃ

আনোয়ারায় মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা: ছেলের বিরুদ্ধে চাচার মামলা

আনোয়ারা প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিয়ে না করানোর ক্ষোভ ও পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবাকে কাঁচি ও ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত স্বপন দাশগুপ্তের ভাই ও অভিযুক্তের চাচা তপন দাশগুপ্ত (৫৭) বাদী হয়ে গত শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে আনোয়ারা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় তাদের একমাত্র ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তকে (৩২) প্রধান আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে রক্তমাখা ছুরিসহ আটক করে।

নিহতরা হলেন— উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের মহাজন বাড়ি এলাকার বাসিন্দা স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) ও তার স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্ত (৫৫)।

মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হতেন রোমি রাজ। এসব পারিবারিক বিরোধ নিয়ে প্রতিবেশী ও সামাজিকভাবে কয়েকবার সালিস-বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানও করা হয়েছিল। শনিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে বিয়ে না দেওয়ার জেরে মা কল্পনা দাশগুপ্তের সঙ্গে রোমি রাজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রোমি রাজ তাঁর মায়ের ওপর কাঁচি নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশগুপ্ত মারা যান। এ সময় স্ত্রীকে বাঁচাতে বাবা স্বপন দাশগুপ্ত এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন রোমি রাজ। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর স্বপন দাশগুপ্তও মারা যান।

জানা যায়, অভিযুক্ত রোমি রাজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগে তাকে পাবনার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে তিন-চার মাস আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন। সম্প্রতি বিয়ে করা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান বলেন, ‘মূলত কথা কাটাকাটির জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই আমরা অভিযুক্ত ছেলেকে রক্তমাখা আলামতসহ আটক করতে সক্ষম হই। রাতে নিহতের ভাই মামলা দায়ের করার পর আসামিকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ (রবিবার) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘পারিবারিক কলহ এবং একমাত্র সন্তানের অবাধ্যতার জের ধরেই এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনার পরপরই ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL