শিরোনামঃ

মেগা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম: এ বছরই মিলছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি

কাঞ্চন চক্রবর্ত্তী
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: কাঞ্চন চক্রবর্তী
ছবি: কাঞ্চন চক্রবর্তী

চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের অভিশাপ 'জলাবদ্ধতা'র স্থায়ী অবসান ঘটতে যাচ্ছে চলতি বছরেই। নগরের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে বন্দরনগরীতে আর কোনো স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার(১৬মে) বিকেলে নগরের শুলকবহর এলাকার মির্জা খাল ও প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।
​পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
​বিগত বছর গুলোতে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পগুলোর মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা থাকলেও, বর্তমান সরকার সে অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রকল্পের সার্বিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রায় ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। গত ৮ বছরে এসব প্রকল্পে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
​সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে সরকারি তহবিলের ওপর কিছুটা চাপ রয়েছে। সেই সঙ্গে বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া বিপুল আর্থিক দায়ও মেটাতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে এই প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
​একই সাথে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
​"বিগত দিনে এই প্রকল্পগুলোতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা লুটপাট হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে বের করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
​আগে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ হলেও এবার বৈজ্ঞানিক উপায়ে জোয়ার-ভাটার হিসাব, পানির প্রবাহ এবং সাগরে পানি নিষ্কাশনের ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে কাজ করা হচ্ছে। নগরের ছোট-বড় মোট ১৩০টি খালকেই এই মহাপরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ এবং খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমান বর্ষা মৌসুমের কারণে কিছু কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও, বর্ষা শেষ হতেই বাকি কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা হবে।
​গত ২৮ এপ্রিলের আকস্মিক ভারী বর্ষণে নগরের প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক জলজট হতে পারলেও স্থায়ী জলাবদ্ধতা আর থাকবে না। তবে এই মেগা প্রকল্পের শতভাগ সুফল পেতে নাগরিকদের মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা ছাড়া কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতামুক্ত রাখা সম্ভব নয়।"

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL