শিরোনামঃ

পার্বত্য মন্ত্রী পদত্যাগে পাহাড়ে আলোচনার ঝড়

সাকিব মামুন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। সোমবার (১ জুন) সকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ​নিজের পদত্যাগপত্রে মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতাকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ​"দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছি। আমার এই অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে আমার পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছি।" ​গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি (২৯৯) আসন থেকে রেকর্ড পরিমাণ ভোটে জয়ী হয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে, প্রায় ১৯ বছর বিচার বিভাগে সফল ক্যারিয়ার শেষে ২০০৫ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে রাঙামাটিতে দলের শক্ত ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। ​সরকারিভাবে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানানো হলেও, এই পদত্যাগ পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে গভীর উত্তাপ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ধরণের শারীরিক ও মানসিক চাপের প্রয়োজন হয়, অসুস্থতা সেখানে বড় বাধা হতে পারে।অনেকের মতে, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে এই সিদ্ধান্তের কোনো গভীর সংযোগ থাকতে পারে। ​মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাঙামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বিস্ময় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই পাহাড়ে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন, যা এখন মাঝপথে থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ​মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রটি ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এখন এই পদটি শূন্য ঘোষণা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে নতুন মন্ত্রী কে হচ্ছেন বা মন্ত্রণালয় পরিচালনার দায়িত্ব কার ওপর ন্যস্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ​অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের এই আকস্মিক পদত্যাগ পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্থানীয় প্রশাসনিক স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL