চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের আদর্শ পাড়ায় অবস্থিত বায়তুল মামুর জামে মসজিদ ও তৎসংলগ্ন মাদ্রাসার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেল ৫টায় মগধরা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ পাড়ায় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২০২৩ সালে সরকারি পুকুর সংলগ্ন পুরোনো মসজিদটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের অনুদান ও কমিটির তহবিলের মাধ্যমে নির্মাণকাজের প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর এলাকার প্রবাসী আব্দুল বায়েছ চৌকিদারের ছেলে আব্দুর রহিম অবশিষ্ট কাজের জন্য তার প্রবাসজীবনের কর্মস্থলের কফিলের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।
কমিটির দাবি, আব্দুর রহিম চার ধাপে মসজিদের জন্য ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং মাদ্রাসার জন্য প্রায় ২১ লাখ টাকা, অর্থাৎ সর্বমোট ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অনুদান সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণ উভয় প্রতিষ্ঠানের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাপ্ত অর্থ মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে এবং সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজন হলে এসব হিসাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
তবে উন্নয়নকাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পর আব্দুর রহিম মসজিদের প্রবেশপথসংলগ্ন মসজিদের মালিকানাধীন জমি থেকে ব্যক্তিগত নামে একটি দোকানঘরের জন্য জায়গা লিখে দেওয়ার দাবি জানান বলে অভিযোগ করেন কমিটির নেতারা। স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়। কারণ মসজিদের সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করা শরিয়ত, প্রচলিত আইন ও জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে তারা উল্লেখ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, দাবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগসহ বিভিন্ন ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিটির অর্থ সম্পাদক মাস্টার বেলায়েত হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানহানিকর বক্তব্য ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
কমিটি দাবি করে, মসজিদ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে সর্বমোট ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অনুদান পৌঁছেছে। এর বাইরে এক কোটি টাকা অনুদান আনার যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো অর্থ মসজিদ বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ছয় দফা বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— উন্নয়ন তহবিলের কোনো অর্থ আত্মসাৎ হয়নি, সকল অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যয় করা হয়েছে, মসজিদের সম্পত্তি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নামে হস্তান্তরের সুযোগ নেই, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ এবং প্রয়োজন হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা।
কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মাদ্রাসার নির্মাণকাজের দায়িত্ব বর্তমানে আব্দুর রহিমের পিতা আব্দুল বায়েছ চৌকিদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি কাজ পরিচালনা করছেন। এরপরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ কমিটির সভাপতি ডা. শামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মাস্টার বেলায়েত হোসেন, সদস্য জামান মোল্লা, সিরাজুদ্দৌলা বাবুল, হাফেজ আবু তারেকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।