শিরোনামঃ

যমজ নবজাতকের মৃত্যু: সিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নুর মিনহাজ উদ্দিন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার এক বেসরকারি সিটি হাসপাতালের ডাক্তারের অবহেলার ও ভূল চিকিৎসার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যমজ দুই নবজাতকের  অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বদিউজ্জামান ও ডা. আবু রাফির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নিহত শিশুদের মামা মো. জিসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অপরিণত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জন্ম নেওয়া যমজ দুই নবজাতককে দ্রুত চট্টগ্রামের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর পরিবর্তে লোহাগাড়া সিটি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যান ডা. বদিউজ্জামান ও ডা. আবু রাফি। স্বজনদের দাবি, একদিন হাসপাতালে রাখার পর শিশু দুটির অবস্থার অবনতি হলেও তাদের চট্টগ্রামে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে লোহাগাড়ার সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইকবাল হোসেনের পরামর্শে দ্রুত চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে একটি নবজাতকের মৃত্যু হয়।
অপর শিশুটি চট্টগ্রামের একটি পেডিয়াট্রিক হাসপাতালে এনআইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায়।

মৃত শিশুদের মামা মোহাম্মদ জিসান বলেন, আমার বোনের প্রসবব্যথা শুরু হলে লোহাগাড়া সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. কানিজ নাসিমার পরামর্শে জরুরি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে যমজ শিশুর জন্ম হয়। পরে শিশু দুটির চিকিৎসা নিয়ে ডা. বদিউজ্জামানের পরামর্শ নেওয়া হলে তিনি চট্টগ্রামে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানান। তার কথায় শিশু দুটিকে একদিন হাসপাতালে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ডা. ইকবাল হোসেনের কাছে নেওয়ার পর তিনি দ্রুত চট্টগ্রামের এনআইসিইউতে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। স্বজনদের অভিযোগ, এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জন্ম নেওয়া নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্রুত স্থানান্তরের পরিবর্তে স্থানীয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারনে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে ও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. বদিউজ্জামান বলেন, জন্মের পর শিশু দুটির ওজন কম হলেও শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। তাই হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। নবজাতকদের মৃত্যু তাদের হাসপাতালে হয়নি।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL