শিরোনামঃ

গণপূর্তে প্রকৌশলী বদলিতে ‘লটারি’, ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা

প্রশাসনিক স্বচ্ছতার নামে ‘অবাস্তব’ পদ্ধতি, পদায়ন ও বদলিতে দক্ষতা-অভিজ্ঞতা উপেক্ষার অভিযোগ

মামুনুর রশিদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণ ও সরকারি ভবন উন্নয়নকাজের অন্যতম প্রধান সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলীদের পদায়ন ও বদলিতে লটারি পদ্ধতি প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার ও স্বচ্ছতার কথা বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নেওয়া এ উদ্যোগকে অনেক প্রকৌশলী ‘অবাস্তব’ ও প্রশাসনিক নীতিমালার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একজন প্রকৌশলীর পদায়ন বা বদলির ক্ষেত্রে তাঁর কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা, পূর্ববর্তী কর্মস্থল, প্রকল্পের ধরন, কারিগরি সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার কাজের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা জরুরি। কিন্তু লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হলে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও কাজের মান—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এখানে প্রকৌশলীদের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে শুধু স্বচ্ছতাই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকৌশলীদের একটি অংশ বলছেন, বদলি ও পদায়নে অনিয়ম বা তদবির বন্ধ করা প্রয়োজন—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে অনিয়ম বন্ধের জন্য লটারি পদ্ধতি কতটা কার্যকর এবং তা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তাদের মতে, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে পদায়ন ও বদলি করা হলে একদিকে যেমন তদবিরের সুযোগ কমবে, অন্যদিকে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতারও যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রকৌশলী বলেন, একই পদমর্যাদার হলেও সব প্রকৌশলীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ক্ষেত্র এক নয়। কেউ বড় নির্মাণ প্রকল্পে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, কেউ আবার রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকল্পনা বা বিশেষায়িত কারিগরি কাজে অভিজ্ঞ। তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে যদি শুধু লটারির ফল বিবেচনা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রকল্পের প্রয়োজনের সঙ্গে কর্মকর্তার দক্ষতার সমন্বয় নাও হতে পারে।
এদিকে লটারি পদ্ধতি নিয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে চাইছেন না। চাকরির পরিবেশ ও প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনায় অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন। কোনো পদ্ধতি যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রশাসনিক বাস্তবতা ও কাজের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করে, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।
তাই গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতির যৌক্তিকতা, প্রশাসনিক বিধি-বিধান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বদলি-পদায়নে তদবির, প্রভাব ও অনিয়ম বন্ধে স্বচ্ছ, লিখিত ও সবার জন্য প্রযোজ্য একটি নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
প্রশ্ন উঠেছে—স্বচ্ছতার নামে লটারি, নাকি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদায়ন—গণপূর্তের মতো কারিগরি সংস্থায় কোন পদ্ধতি বেশি কার্যকর?

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL