শিরোনামঃ

আপনার মোবাইল এখন কি রাষ্ট্রীয় গুপ্তচর?

মোহাম্মদ সামির
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: মোহাম্মদ সামির
ছবি: মোহাম্মদ সামির

বর্তমান বিশ্বে একটি স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয় এটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, গোপন আলাপ, ব্যাংক তথ্য, ছবি, ভিডিও, অবস্থান এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। আর এই স্মার্টফোনই এখন পরিণত হয়েছে নজরদারির সবচেয়ে বড় অস্ত্রে। বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্পাইওয়্যার Pegasus ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের মানুষও কি এই ডিজিটাল নজরদারির ঝুঁকিতে রয়েছে?

ইসরায়েলভিত্তিক সাইবার গোয়েন্দা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান NSO Group তৈরি করেছে অত্যাধুনিক এই স্পাইওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং বিরোধী মতের ব্যক্তিদের ওপর নজরদারিতে ব্যবহার করা হয়েছে এই সফটওয়্যার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেগাসাস সাধারণ হ্যাকিং সফটওয়্যার নয়। এটি জিরো-ক্লিক এক্সপ্লয়েট প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম। অর্থাৎ ব্যবহারকারী কোনো লিংকে ক্লিক না করলেও, এমনকি ফোন রিসিভ না করলেও একটি মিসড কল বা নির্দিষ্ট মেসেজের মাধ্যমেই ফোনে প্রবেশ করতে পারে এই স্পাইওয়্যার।

একবার ফোন আক্রান্ত হলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই পুরো ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে পেগাসাস। ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন গোপনে চালু করা, কল রেকর্ড শোনা, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের বার্তা পড়া, ইমেইল পর্যবেক্ষণ, লোকেশন ট্র্যাকিং, এমনকি সংরক্ষিত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করার মতো কাজ করতে পারে এটি।

২০২১ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর যৌথ অনুসন্ধান (পেগাসাস প্রজেক্ট)বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, বহু দেশের হাজার হাজার মানুষের ফোন নম্বর সম্ভাব্য নজরদারির তালিকায় ছিল। এতে রাষ্ট্রপ্রধান, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নামও উঠে আসে।

বাংলাদেশে সরকারিভাবে পেগাসাস ব্যবহারের কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ হয়নি। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক বিশ্বে ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানোর খবরও বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে ব্যক্তিগত তথ্য আদৌ কতটা নিরাপদ?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। মোবাইল ফোন নিয়মিত আপডেট রাখা, অচেনা লিংক ও ফাইল এড়িয়ে চলা, দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা (2FA) চালু রাখা এবং সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া ফোন অস্বাভাবিক গরম হওয়া, ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া বা অচেনা কার্যক্রম দেখা গেলে সতর্ক হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বজুড়ে এখন একটি বড় বিতর্ক সামনে এসেছে নিরাপত্তার নামে কতদূর পর্যন্ত নজরদারি গ্রহণযোগ্য? প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ডিজিটাল এই যুগে তাই প্রশ্ন একটাই আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি কি শুধুই আপনার, নাকি অদৃশ্য কারও নজরও সেখানে সক্রিয়?

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL