শিরোনামঃ

দীঘিনালায় প্রথমবার আখ চাষ, ৩থেকে ৪ লাখ টাকা বিক্রির স্বপ্ন বদন কুমারের

মোঃ হাচান আল মামুন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় প্রথমবারের মতো আখ চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন বদন কুমার চাকমা। নিজ উদ্যোগে তিন কানি জমিতে আখের বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। এরই মধ্যে বাগানে ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বাগান থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার বেশি আখ বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি।
বদন কুমার চাকমা উপজেলার ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তারাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় সীমিত সামর্থ্য নিয়েই কৃষিকাজের পাশাপাশি নতুনভাবে আখ চাষে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় দের কানি জমিতে ‘রংবিলাস’ জাতের আখ চাষ করেছেন বদন কুমার। বাগান তৈরিসহ চাষাবাদে এখন পর্যন্ত তার প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ অর্থের একটি বড় অংশই মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদে ব্যয় করেছেন তিনি।
বদন কুমার চাকমা বলেন, ‘নিজের উদ্যোগে আখ চাষ শুরু করেছি। শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করলেও আমি চেষ্টা চালিয়ে গেছি। বর্তমানে বাগানে মোটামুটি ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি, সব আখ ভালোভাবে বিক্রি করতে পারলে ৩ থেকে ৪লাখ টাকার বেশি আয় করতে পারব।
তবে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা না পাওয়ায় কিছুটা হতাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বদন কুমার বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। পর্যাপ্ত সার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করতে পারিনি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে বাগানের ফলন আরও ভালো হতো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে আখ চাষ খুব বেশি হয় না। বদন কুমার চাকমা যে সাহস ও উদ্যোগ নিয়ে আখ চাষ করেছেন, এজন্য তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। কৃষি অফিস থেকে তার কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমরা দেওয়ার চেষ্টা করব। পরবর্তী সময়ে সরকারি উদ্যোগে তাকে আখের চারা ও সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য এলাকায় নতুন নতুন ফসলের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বদন কুমারের মতো কৃষকদের উদ্যোগকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা করা গেলে এলাকায় আখ চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL