পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং বাজার এলাকায় অন্তত দেড় দশক ধরে অকার্যকর একটি স্লুইস গেট। সেচ সংকটে বোরো ধানের চাষে ভাটা পড়েছে। কৃষকদের দাবি, সেচ সুবিধা না থাকায় শতাধিক হেক্টর জমিতে বোরো মৌসুমে ধানের পরিবর্তে আবাদ হচ্ছে প্রাণঘাতী বিষবৃক্ষ তামাক।
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে স্লুইস গেটটি নির্মাণ করে। কিন্তু কয়েক বছর পরই এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। গত দেড় দশকেও হয়নি কোনো সংস্কার। ফলে শতাধিক হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
স্লুইস গেটটির পার্শ্ব দেয়াল ও কংক্রিটের আস্তরণ খসে পড়েছে। লোহার অংশে ধরেছে মরিচা। তিনটি কপাটের মুখে মাটি, আগাছা ও পলিথিন জমে পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ। এছাড়া স্লুইস গেইট থেকে কৃষিজমিতে পানি পৌঁছানোর শাখা ড্রেনগুলো ভেঙে ও ভরাট হয়ে পড়েছে। ফলে বোরোসহ শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প ফসল হিসেবে অনেক কৃষক ঝুঁকছেন তামাক চাষে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কয়েক হাজার ফুট দূর থেকে পানি এনে ধান চাষ করা সম্ভব নয়। উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, ফলনও কমে। তাই বাধ্য হয়েই ধানের বদলে তামাক আবাদ করছেন তারা। সেচ ব্যবস্থা পুনরায় চালু হলে ধানের আবাদ বাড়বে বলেও দাবি তাদের।
অকার্যকর স্লুইস গেটটি দ্রুত মেরামত করা হলে জমিগুলো আবার চাষাবাদের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন।
এদিকে খাগড়াছড়ি কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী হোছাইন মোহাম্মদ শাহাদাত বলেন, স্লুইস গেট ও সেচনালা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও পাশাপাশি তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে কৃষকদের।
দ্রুত স্লুইস গেট সংস্কার করে বোরো ও অন্যান্য শুষ্ক মৌসুমের চাষাবাদ সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।