শিরোনামঃ

আলোর মুখ দেখছে ইকোনমিক জোন, উদ্বোধন আজ

ইমরান হোসাইন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: ইমরান হোসাইন
ছবি: ইমরান হোসাইন

অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডািিস্ট্রয়াল জোনের (সিইআইজেড)। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় আনোয়ারার বৈরাগ প্রকল্প এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম এমপি, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, আনোয়ারার ইউএনও মো. মহিন উদ্দিনসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে । মূলত রফতানিমুখী ভারী শিল্প, তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে এই অঞ্চলটি ভূমিকা রাখবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনা দেখা গেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রকল্প বাস্তব রূপ নেওয়ায় খুশি তারা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার পাশাপাশি এ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি। এটি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিবহন ও লজিস্টিক সুবিধার দিক  থেকে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করবে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম আরো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রনেতা মো. মহিম উদ্দিন বলেন, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের বৃহৎ প্রকল্পটি এলাকার মানুষের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি এলাকার বেকারত্ব দূর হবে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন বলেন, ‘আনোয়ারাবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের একটি দিন। এই বৃহৎ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে তা পাল্টে যাবে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের চিত্র। চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান সফল করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবধরনের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।’

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL