নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিষ্ফোরণে বাংলাদেশী চার তঞ্চঙ্গা ও এক রোহিঙ্গা তঞ্চঙ্গার প্রাণহানির পর এবার পা উড়ে গেলে ১টি গৃহপালিত গরুর। সীমান্ত পিলার ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলার মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গরুর মালিক বাইশফাঁড়ির চাকমার পাড়ার বাসিন্দা মৃত রিমু কারবারি তংচংগ্যার ছেলে অংপুচা তংচংগ্যা। গরুটি ঘাস খাওয়া অবস্থায় মাইন বিষ্ফোরণে পা বিচ্ছিন্ন হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাড়ি তুইঙ্গাঝিরি সীমান্তে।
স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ঘুমধুমের এ সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিষ্ফোরণে নিহত ৫ ব্যক্তির শোকের রেশ কাটকে না কাটতেই গৃহপালিত গরুর পা বিচ্ছিন্নের ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ গরুর না পড়ে যদি কোন গরুর রাখালের পা বিচ্ছিন্ন বা হতাহত হত তা হলে কী হতো এ ভয়ে।
তারা আরো জানান, ঘুমধুম সীমান্তে ল্যান্ডমাইনে প্রথম ঘটনা ঘটে ৩ তঞ্চঙ্গার
প্রাণহানির মাধ্যমে।
এটি ২৪ মে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সীমান্ত পিলার ৪১ ও ৪২ মাঝামাঝি জায়গার দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- লেয়ারা তঞ্চঙ্গা (৪১), পিতা: সুনইয়ং চাকমা; অংকেমং তঞ্চঙ্গা (৫০), পিতা: মৃত নিওমং চাকমা এবং চিংকা অং তঞ্চঙ্গা (৪০) তার, পিতা: অইমং চাকমা। তাদের সবার বাড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়া গ্রামে।
এর ৮ দিন পরে ২ জুন মঙ্গলবার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন জিরো লাইনে পরিত্যক্ত মর্টারের গোলা বিস্ফোরণে মিয়ানমারের এক কিশোর নিহত হয়। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের এ কিশোরের নাম সতনাইং তঞ্চঙ্গা (১২)বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাড়ি পশ্চিম পাড়া কিংহ্লা তঞ্চার ছেলে সে। এ কিশোরের পরিবার গত ২ বছর আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তঞ্চঙ্গা পাড়ায় আত্মীয়দের বাড়িতে গোপনে অবস্থান করছিল।
৩৪ বিজিবি সুত্র এসব বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, আগের ৫ জনের প্রাণহানি ঘটনার পর এবং এর আগেও তারা সীমান্তে কোন মানুষ বা কোন গৃহপালিত প্রাণী যেন না যায় সতর্ক করেছিলন তারা।
বর্তমানেও নানাভাবে সচেতনতা মূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছে। কিন্তু কেহই এ কথা মানছেন না। পাহাড়ের হাজারো পথ। এ সব পথ বেয়ে তারা সীমান্তে গমন করে।
এমন কী গৃহপালিত পশু নিয়ে যায়। যার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটছে।
বড় এই ৩ ঘটনার পর এই এলাকায় গৃহপালিত গরুর পা উড়ে য়াওয়ার পর বর্তমানে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সীমান্তের জিরো লাইনে কাউকে না যেতে বিজিবির পক্ষ হতে অনুরোধ করা হয়েছে।
৩৪ বিজিবি সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে
বলেন, ২ জুন মঙ্গলবার নাইক্ষ্যংছড়ি ৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন জিরো লাইনে পরিত্যক্ত মর্টারের গোলা বিস্ফোরণে মিয়ানমারের এ কিশোর নিহত হয়। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের এ কিশোরের নাম সতনাইং তঞ্চঙ্গা (১২)বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাড়ি পশ্চিম পাড়া কিংহ্লা তঞ্চার ছেলে। এ কিশোরের পরিবার গত ২ বছর আগে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তঞ্চঙ্গা পাড়ায় আত্মীয়দের বাড়িতে গোপনে অবস্থান করছিল।
৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে:কর্ণেল মো:খাইরুল আলম ঘটনার কথা অবহিত হয়েছেন দাবী করে বলেন,সীমান্ত এলাকায় না যেতে বারবার নিষেধের পরও চোরাকারবারী ও স্খানীয় কিছু লোকজন জঙ্গলাকীর্ণ পথ বেয়ে
ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে যাওয়ার কারণে এ সব দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।
তিনি আরো বলেন গত ৩ সপ্তাহ ব্যাপী ৩৪ বিজিবি এ ধরণের বিষয় নিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ করছেন তারা । এর আগে অনেকবার এ নির্দেশ না মেনে অনেকে সীমান্তের নো-ম্যান্সল্যান্ডে যায়। ফলে হতাহত হচ্ছে মানুষ বা প্রাণী।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মক্থা এনামুল হাসান বলেন বিষয়টি শুনেছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন এরআগে গত সপ্তাহে তিনি নিজেও সে এলাকায় গণসচেতনতা মুলক উঠান বৈঠক করে সীমান্তে গমানাগমন না করতে সীমান্তের অধিবাসীদের সতর্ক দরেছিলেন।