শিরোনামঃ

বাঁশখালীতে সাংবাদিকের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের তদন্ত শুরু

বাঁশখালী প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

বাঁশখালী পৌরসভা এলাকায় এক সাংবাদিকের মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (১৩ জুন) গভীর রাতে বাঁশখালী পৌরসভা ভবনের দক্ষিণ পাশে এবং জলদী মাখজানুল উলুম বাইঙ্গাপাড়া বড় মাদ্রাসার উত্তর পাশে, আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি প্রধান সড়ক সংলগ্ন একটি জমিতে টিনের বেড়া নির্মাণের মাধ্যমে দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও বাঁশখালী প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব মু. মিজান বিন তাহেরের দাবি, বাহার উল্লাহপাড়া এলাকার মৃত ফয়জুল্লার ছেলে শহিদুল্লাহ ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তার পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের জমিদার মরহুম শেখ ওয়াজেদ আলীর মালিকানাধীন ১০ শতক জমি ১৯৫১ সালে দলিলমূলে জলদী মাখজানুল উলুম বাইঙ্গাপাড়া বড় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর কাছে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের দখলে রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশ এবং পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে জমির দক্ষিণাংশে দুটি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এ অবস্থায় শনিবার গভীর রাতে জমিটি নিজেদের দাবি করে প্রতিপক্ষ সেখানে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মু. মিজান বিন তাহের বলেন, “আমার দাদা ১৯৫১ সালে দলিলমূলে জমিটি ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভোগদখলে আছি এবং সেখানে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছি। জমি সংক্রান্ত মামলায় আমাদের পক্ষে রায় রয়েছে এবং দালান নির্মাণের জন্য পৌরসভার অনুমোদনও আছে। এরপরও গভীর রাতে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।”
তবে অভিযুক্ত শহিদুল্লাহর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, “জমি দখলের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্টদের কাজ বন্ধ রাখার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, “গভীর রাতে জমি দখলের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL