বাঁশখালী পৌরসভায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভোক্তাদের দাবি, টিসিবির নির্ধারিত প্যাকেজ মূল্য ৫৪০ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ৫৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এ অভিযোগ উঠেছে বাঁশখালী পৌরসভার ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজ’-এর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টিসিবির বিশেষ প্যাকেজে জনপ্রতি ২ লিটার ফ্যামিলি ফোর্টিফায়েড সয়াবিন তেল, ১ কেজি খোলা চিনি, ২ কেজি মসুর ডাল এবং ৫ কেজি চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব পণ্যের নির্ধারিত মূল্য ৫৪০ টাকা।
বাঁশখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাহার উল্লাহ পাড়া এলাকার মুফিজ ভিলার নিচতলায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজারের বেশি ভোক্তার কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিসিবির নিয়ম অনুযায়ী মূল্য তালিকা, পণ্যের বিবরণ ও ডিলারের নাম-ঠিকানাসহ ব্যানার প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে তা টানানো হয়নি। টিসিবি কার্ডধারীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কার্ড স্ক্যান করে টাকা জমা দিয়ে পণ্য নিতে হচ্ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা মো. আসিফ ভাংতি টাকার অজুহাতে অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায় করছেন। এছাড়া অনেক ক্রেতার কাছে ব্যাগ না থাকায় ব্যাগের মূল্য হিসেবে অতিরিক্ত ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিছু ভোক্তা অভিযোগ করেন, ৫ কেজি চালের পরিবর্তে ৪ কেজি ৬০০ গ্রাম থেকে সাড়ে ৪ কেজি পর্যন্ত চাল দেওয়া হয়েছে।
টিসিবি কার্ডধারী রহিমা বেগম, ফাতেমা বেগম, নুর জাহান, জোৎস্না আক্তার, ফরিদ আহমদ, এনাম, আব্দুল হাকিম ও নাজিম উদ্দিনসহ একাধিক ভোক্তা জানান, ৫৪০ টাকার পরিবর্তে ৫৫০ টাকা দিলে ভাংতি নেই বলে অতিরিক্ত ১০ টাকা রেখে দেওয়া হয়।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার মো. মহসিন আলী বলেন, ভাংতি টাকার অজুহাতে অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ একাধিক ভোক্তা আমাকে জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তারেকুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে তিনটি ওয়ার্ডে একসঙ্গে টিসিবি পণ্য বিতরণের কারণে অতিরিক্ত ভিড় হয়েছিল। ভাংতি টাকা না থাকায় ভুলক্রমে কিছু গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে টিসিবির চট্টগ্রাম অফিসের প্রধান মিশকাতুল আলম বলেন, বিষয়টি এই প্রথম জানতে পারলাম। কোনো ডিলার গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতে পারবেন না। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।