চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছুড়ি মৌজায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) আওতাধীন একটি গভীর নলকূপ গোপনে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর কাছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ফিল্ড অফিসার মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি সেচ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া নলকূপটি প্রকৃত কৃষকদের স্বার্থে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রভাবশালীদের বাড়িতে স্থাপন করা হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পূর্ব পুঁইছুড়ির গর্জনিয়া পাড়া এলাকার কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গর্জনিয়া পাড়া জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে ওজুর পানির জন্য কোনো নলকূপ ছিল না। পাশাপাশি মসজিদের আশপাশে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি রয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল, নলকূপটি মসজিদের পাশে স্থাপন করা হবে, যাতে মুসল্লি ও কৃষক উভয়েই উপকৃত হন।
তাদের দাবি, বিএডিসির সুপারভাইজার সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনও করেন। তবে পরবর্তীতে নলকূপটি মসজিদের পাশের কৃষিজমিতে না বসিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ছগিরের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়ালের ভেতরে স্থাপন করা হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছগির স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের মামাতো ভাই।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা না থাকায় কৃষকরা ফসলহানির ঝুঁকিতে পড়ছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নলকূপটি কৃষিজমিতে স্থানান্তরের দাবি জানান।
গর্জনিয়া পাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সংসদ সদস্য জহির ভাই আমাকে বিএডিসির ফিল্ড অফিসার শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। এটি মূলত কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য বরাদ্দ পাওয়া নলকূপ ছিল, মসজিদের জন্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে নলকূপ সুবিধাভোগী ছগিরের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বিএডিসির ফিল্ড অফিসার মো. শাহজাহান বলেন, এসব নলকূপ কৃষি সেচের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। নলকূপটি তার বাড়ির উত্তর পাশে স্থাপনের কথা ছিল, যাতে কৃষকরা সেচ কাজে পানি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু তিনি সেটি বাড়ির বাউন্ডারি ওয়ালের ভেতরে স্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে আমাদের অফিস থেকে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।