শিরোনামঃ

নির্মাণ কাজ শেষের ৪ বছরেও চালু হয়নি বান্দরবান ম্যাটস, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার ভবন

মোহাম্মদ ইলিয়াছ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানে নির্মাণ কাজ শেষের ৪ বছরেও চালু হয়নি মেডিক্যাল এসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)। তিন একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে মোট ৮টি ভবন। ভবনের ভেতরের ও বাইরের সড়কগুলো পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশনে। ব্যবহৃত হচ্ছে গরু-ছাগলের খামার হিসেবে। বিদ্যুতের বাতি বসানোর জায়গায় জমেছে পাখির বাসা। অথচ এসব ভবন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে নিজস্ব সবকটি ভবনই পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে জনমানবশূন্য স্থানটি তৈরি হয়েছে কিছুটা ভূতুড়ে পরিবেশে। স্থানীয়দের দাবী, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে নষ্ট হচ্ছে সরকারের এই সম্পদ।

পার্বত্য এলাকায় শিক্ষার মান বাড়াতে কোয়ার্টার, শিক্ষক ডরমিটরি, ছাত্রদের আবাসন সুবিধাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ২০২১ সালে বান্দরবান রেইচা এলাকায় শ্রম ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও চালু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রম।

স্কুলের নাইট গার্ড জানায়, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ম্যাটসটি নির্মিত হলেও এখনও কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে চালু হলে পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমার সুযোগ পেতো এবং স্থানীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারত। এখন ৩ বছর ধরে ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।

স্থানীয়রা জানায়,পাহাড়ি এলাকার শিশুরা অনেক আশা নিয়ে বসে আছে নিজ জেলায় কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। যারা খুব কষ্টে পড়াশোনা করবে তারা আজ সেই সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘ ৪ বছরেও প্রজেক্টটি চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছেন। 

বান্দরবান সদর ইউপি চেয়ারম্যান অং সা হ্লা মারমা বলেন, ম্যাটসটির ৩ বছর আগেই কাজটি শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রজেক্টটি চালু করা হয়নি। ফলে পাহাড়ি এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা পিছিয়ে পড়ছে। প্রজেক্টটি দ্রুত চালু হলে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের বাইরে গিয়ে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হবে না। তাই দ্রুত চালুর দাবি জানাচ্ছি।

শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে—২০২১ সালে বান্দরবান সদর উপজেলার রেইচা এলাকায় শ্রম ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে টেকনিক্যাল স্কুল (ম্যাটস) নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ ও আসবাবপত্র না থাকায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো: আবদুল রউফ এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL