শিরোনামঃ

তেল বরাদ্দের অভাবে অচল হাসপাতালের জেনারেটর, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরমে

আনোয়ারা প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আনোয়ারার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি তেল বরাদ্দের অভাবে দুটি জেনারেটর অচল হয়ে পড়ে আছে। তীব্র লোডশেডিংয়ে গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বজনরা।

জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থানীয় মানুষের চিকিৎসার একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। এ হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় সহস্রাধিক বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চিকিৎসা সেবা নেন।

তবে গত কয়েক দিনের টানা লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আগে বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের মাধ্যমে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলত। কিন্তু ঘনঘন লোডশেডিং এবং জেনারেটর সচল না থাকায় বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যহৃত হচ্ছে।

গত সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারেন্ট না থাকায় পুরো মেডিকেল জুড়ে নেমে আসে ভুতুড়ে অবস্থা। এ অন্ধকারের মধ্যে গরমের যন্ত্রনায় বেডে বা ফ্লোরে কাতরাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ, মহিলা রোগী ও স্বজনরা। এতে গরমের যন্ত্রনা থেকে রেহাই পেতে অনেকে কাগজের ঢালকে পাকা বানিয়ে বা দোকান থেকে কিনে এনে পাকা দিয়ে বাতাস করতেছে। অনেকে শিশুদেরকে পানি দিয়ে শরীর মুছে দিচ্ছে। 

তীব্র গরমের যন্ত্রনায় মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডের বেডে চটপট করছে আট মাস থেকে আট বছরের শিশুরা। তাদেরকে গরমের যন্ত্রনা থেকে বাঁচাতে শিশুদের মায়েরা কাগজ বা কাপড়ের হাত পাকা দিয়ে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করছে৷ তবে তীব্র গরমে সে বাতাসেও গায়ে লাগছেনা৷

অন্যদিকে কেউ কেউ গরমের জ্বালায় হাতে স্যালাইনের ক্যানুলা নিয়ে বেড ছেড়ে মেডিকেলের বারান্দা বা সিঁড়িতে বসে রয়েছে। আর কেউ অসুস্থতার যন্ত্রণা নিয়েও বাহিরে বা ছাদে হাটাহাটি করছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ লাখ টাকায় ১০ কেভি ক্ষমতার একটি জেনারেটর সরবরাহ করে। পরে ২০২৪ সালে ৩০ কেভি ক্ষমতার আরও একটি জেনারেটর পান হাসপাতালটি। তবে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় কোনো জেনারেটরই চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

ক্ষিপ্ত হয়ে এক রোগীর স্বজন জানান, শরীরের রোগ ভাল করতে এসে উল্টা গরমের যন্ত্রণায় রোগী হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রোগী দেখতে এসে উল্টো রোগী হতে হচ্ছে  মেডিকেলে কারেন্ট চলে গেলে জেনেরেটরের কোনো ব্যবস্থা নেই। অথচ জেনেরেটর আছে কিন্তু তেলের অভাবে জেনেরেটর বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে গরমের যন্ত্রনায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের আরও সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। 

পাঁচ বছরের শিশু নিয়ে আসা মা জোসনা আক্তার  জানায়, বাচ্চার ডায়রিয়া হওয়ায় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসেছি। ডাক্তার দেখিয়ে ছেলেকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করালে সেখানে দেখি কারেন্ট নেই। নেই জেনারেটরের ব্যবস্থা। এতে পুরো মেডিকেল অন্ধকার। এছাড়া তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। সরকারি সেবা কেন্দ্রে এমন নাজুক অবস্থা হলে আমরা কোথায় যাব৷ 

হাতে স্যালাইন লাগিয়ে মেডিকেলের সিঁড়ির পাশে বসে থাকা হোসেন নামের এক ডায়রিয়া রোগী জানায়, কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া পুরো শরীর দূর্বল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা নিতে মেডিকেলে এসেছি। ডাক্তার স্যালাইন দিয়েছে। কিন্তু গরমের যন্ত্রণায় স্যালাইন লাগিয়ে আরাম করে বেডে থাকতে পারতেছিনা তাই স্যালাইন হাতে সিঁড়ির পাশে চলে এসেছি। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন নাজুক অবস্থা খুবই দুঃখজনক।

জানা যায়, তীব্র এ গরমে বেশিরভাগ শিশু থেকে সব বয়সের মানুষ থেকে ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি রোগ দেখা দিয়েছে। এতে কয়েকদিন ধরে মেডিকেলে এসব রোগীদের ভিড় বেড়েছে। 

আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনেরেটরের তেলের সমস্যা ছাড়াও ঠিকমতো ডাক্তার না আসা, চারপাশে অপরিষ্কার দুর্গন্ধ, ভাল চিকিৎসা না পাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যার অভিযোগ তুলেন রোগী ও স্বজনরা। 

এবিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মেডিকেলে দুটি জেনেরেটর রয়েছে। তবে সরকারিভাবে তেলের ব্যবস্থা না থাকায় নিজেদের থেকে অর্থ দিয়ে কিছু তেলের ব্যবস্থা করা হয়।দৈনিক ২০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয় জেনেরেটর গুলো চালু রাখার জন্য। ১ লিটার তেল দিলে ৮ মিনিট পর্যন্ত জেনেরেটর চালু রাখা সম্ভব হয়।’

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় কারেন্ট না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জেনেরেটর চালু করে চিকিৎসা প্রদানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বাকি সময় জেনেরেটর বন্ধ রাখতে হয়।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL