শিরোনামঃ

‎আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষায় জায়গা দখলের চেষ্টা; রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

এমকে হামিদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

‎আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মহেশখালীর মাতারবাড়ী নতুন বাজার সিএনজি স্টেশনের পূর্ব পাশে গ্যাস পাম্পের লাগোয়া এক খন্ড জায়গা দখল করতে বার বার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় মোস্তাক আহমদ সিকদারের পুত্র মানিক চৌধুরী।  এতে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে দখলে থাকাও বায়নামা সূত্রের মালিক  আবু বক্কর গং অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। 

‎

‎জানা যায়, কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের গ্যাস পাম্পের লাগোয়া বিশাল জায়গা রয়েছে মনোওয়ার আলী সিকদারের। তাঁর ছিল ৬ ছেলে  ও ৫  কন্যা। উক্ত জায়গা ভাগ বাটোয়ারা মতে যার যার অবস্থানে দখলে থাকে। তবে মনোওয়ার আলী সিকদারের রেখে যাওয়া অধিকাংশই জায়গা রাঙ্গাখালী খালের পানিতে প্রায় সময় ডুবে থাকে। এ জায়গা ভাগবাটোয়ারায় বিভিন্ন গড়মিলের অভিযোগ এনে মরহুম মনোওয়ার আলী সিকদারের কন্যা মাশুকা বেগম বাদী হয়ে কক্সবাজার সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১০০/২০১১। এ অবস্থায় মরহুম মনোওয়ার আলী সিকদারের ওয়ারিশানরা তাদের জায়গা বিক্রির জন্য ভরাট করার উদ্যোগ নেয়। এতে অর্থের সংকট থাকায় মনোওয়ার আলী সিকদারের পুত্র ইঞ্জিনিয়ার জিয়া উদ্দিন চৌধুরী তার প্রাপ্ত জায়গা ভরাট করার জন্য স্থানীয় আবদুর রহিমের সাথে চুক্তি হয়। জায়গা ভরাট পরবর্তী টাকার পরিবর্তে চুক্তি মোতাবেক আবদুর রহিম কে ৪৫ কড়া জায়গা দেয়া হয় । তা দখলও দেয়া হয়। অপরদিকে ইঞ্জিনিয়ার জিয়া উদ্দিনের ভাই মোস্তাক আহমদের অংশ ভরাট করার জন্য স্থানীয় কুদ্দুসের সাথে অনুরুপভাবে চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক মোস্তাক আহমদের অংশ ও কুদ্দুস ভরাট করে দেয়ার কারণে টাকার পরিবর্তে তাকে ৪৫ কড়া জায়গা দেয়া হয়। সাথে সাথে তা দখলও দেন। এ অবস্থায় ইঞ্জিনিয়ার জিয়া উদ্দিন চৌধুরী তাঁর প্রাপ্ত অংশ থেকে ১৭০ কড়া, আবদুর রহিম এর পাওয়া ৪৫ কড়া ও কুদ্দুস এর পাওয়া ৪৫ কড়া জায়গা বিক্রির উদ্যোগ নেয়। এ খবর পেয়ে স্থানীয় সিকদার পাড়ার বাসিন্দা মরহুম মাওলানা জাফর আহমদের পুত্র আবু বক্কর গং উল্লেখিত জায়গা ক্রয়ের জন্য উদ্যোগ নেন। এমনকি ক্রয়ের জন্য উল্লেখিত ৩ জনের সাথে বায়নামা মুলে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গত ৪ বছর পূর্বে তারা দখল ও আবু বক্কর গং কে বুঝিয়ে দেন। জায়গা বুঝে পাওয়ার পর বায়নামা মুলে মালিক হয়ে উল্লেখিত জায়গার চারদিকে ভাউন্ডারী আর টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখেন। পরবর্তীতে আবু বক্কর গং  মাতারবাড়ী সড়ক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার আর এফ এল কোম্পানি কে মালামাল রাখার জন্য গত ২ বছর পূর্বে ভাড়া দেন। তবে বায়নামা মালিক হিসেবে আবু বক্কর গং এর ২৬০ কড়ার মধ্যে  ৩২ কড়া জায়গা এখনো বুঝে পায়নি। এ অবস্থায় মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর পুত্র মানিক চৌং লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে চাঁদা দাবী, মারধর, খুনখারাপিসহ দখল উচ্ছেদ করার প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান করে যাচ্ছেন। গত কয়েক দিন ধরে জোরপূর্বক অবৈধ অনুপ্রবেশ করে আবু বক্কর গং এর দখলে থাকা জায়গা দখল করার জন্য বার বার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর এফ এল কোম্পানীর রাখা মালামালসহ নিয়ে এক খন্ড জায়গা দখল করার জন্য ইতিমধ্যে মানিক চৌধুরী কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। এমনকি উক্ত জায়গা নিয়ে আদালতে নিষেধাজ্ঞা ও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কপি মহেশখালী থানার ওসি পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ভাবে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উক্ত জায়গায় ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি রাজিবকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করেন। পুলিশ দেখে মানিক চৌধুরীর লোকজন পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে ৮ জন শ্রমিককে আটক করেন। এর পর আইনগত ভাবে কোন সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মানিক চৌধুরী উক্ত জায়গায় না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ায় উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তে আটককৃত শ্রমিকদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।  তবে ভুক্তভোগী আবু বক্কর গংদের আবদু শুক্ষুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আবারো নতুন করে উক্ত জায়গা দখল করার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে মানিক চৌধুরী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী আবু বক্কর গং এর পক্ষে আবদু শুক্ষুর। 

‎

‎মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুস সুলতান জানান, কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই রাজুকে সরজমিনে পরিদর্শন করে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

‎

‎

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL