শিরোনামঃ

চোর সন্দেহে বিদ্যুৎ এর খুঁটির সাথে বেঁধে যুবককে হত্যা 

এমকে হামিদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দু'সন্তান ও আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী'র কান্নায় আকাশভারী। মধ্যযুগীয় কায়দায় চোরের তকমায় খুনের শিকার হলো বড় মহেশখালীর ফয়সাল নামক যুবক। আর বাবা ডাকা থেকে বঞ্চিত এতিম ছেলেরা।

‎মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারের পশ্চিমে একটি বাড়ী চোর সন্দেহে করে ধরে প্রধান সড়কস্থ বিদ্যুৎ এর খুঁটির সাথে বেঁধে পিটের ওপর একাধিক ইট তোলে দিয়ে পৈশাচিকভাবে শারিরীক নির্যাতন ও এলোপাতাড়ি বেধড়ক মারধরে প্রাণ গেল মোহাম্মদ ফয়সাল (২৮) নামক যুবকের। নিহত যুবক উপজেলার একই ইউনিয়নের মধ্যম ফকিরাঘোনা গ্রামে মোহাম্মদ বাদশা ও ছাবেকুন্নাহার এর পুত্র। পিতা ও স্বামী হারা স্ত্রীর ঠাঁই কোথায় হবে দুঃচিন্তায় আত্মীয়-স্বজন।


‎স্থানীয় সচেতন মহলের বরাতে জানা যায়, উপজেলার বড় মহেশখালী নতুন বাজারের পশ্চিমে চোর সন্দেহে বিদ্যুৎএর  খুঁটির সাথে বেঁধে পিটের ওপর ইট তোলে দিয়ে এবং অমানবিক নির্যাতন চালায় প্রতাপশালীরা। নির্যাতন চালানো অবস্থায় উল্লাসের ছবি এবং ভিড়িও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। নির্যাতন চলাকালীন ঢলে পড়লে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 


‎এদিকে শারিরীক নির্যাতনের শিকার নিহত পরিবারের দাবী ছেলেটি দিনমজুরের কাজ করত। তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের এমইউপি মোহাম্মদ আলী আকবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এফবি'র ভিড়িও বার্তায় তাঁর  বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বলেন- তিনি খুবই খারাপ স্বভাবের ছেলে। এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত। অপরদিকে মেম্বার আলী আকবরে ভিডিও বার্তায় নিন্দার ঝড় বইছে। সচেতন মহলের দাবী অপরাধের মুলহোতা ব্যক্তি মেম্বারের ভায়রা ভাই। তাই তিনি যুবকের মৃত্যু নিয়ে বিরূপ মন্তব্যে জড়ায়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- দেশে আইন-কানুন আছে। সেই চোর হলে ধরে থানা প্রশাসনকে সোপার্দ্য করতে পারত। পূর্ব শত্রুতা থাকায় কিশোরদের দিয়ে নরপশুত্ব সামিল নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে ফয়সাল নামক যুবককে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রয়োজন মনে করেন তারা। থানা সূত্রে জানা গেছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক জনকে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। জড়িত অপরাধীদের ভিডিও এবং ছবি দেখে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

‎মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুস সুলতান জানান- খুবই মর্মান্তিক ঘটনা! জড়িতদের শণাক্ত পূর্বা আটক করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চলমান রয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL