দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে “পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিক নির্দেশনা” শীর্ষক এ সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী ও মহান ১০ মাঘ ১২০তম পবিত্র উরস শরিফ উদযাপনের অংশ হিসেবে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, “সব ধর্মের মূল শিক্ষা দেশপ্রেম, শান্তি ও মানবকল্যাণ। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মিলনে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ, ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, ফাদার রুপক আইজেক রোজারিও ও শশাঙ্ক বরণ রায়।বক্তারা বলেন, সহিংসতা, ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতা বর্তমান বিশ্বের বড় সংকট। সব ধর্মেই ন্যায়, দয়া, মানবতা ও সহাবস্থানের শিক্ষা রয়েছে। এসব মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সহিংসতামুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।এসময় ট্রাস্টের মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টি হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারীর বাণী পাঠ করেন গবেষণা সহকারী সাইদুল ইসলাম সাইদু।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসনাইন। গীতাপাঠ করেন অধ্যাপক শ্রী স্বদেশ চক্রবর্তী, ত্রিপিটক পাঠ করেন ভদন্ত এম বোধি মিত্র ভিক্ষু এবং বাইবেল পাঠ করেন পাস্টর রিপন রায়।হামদ পরিবেশন করেন সৈয়দ সামিউল হক ফরহাদাবাদী এবং মাইজভাণ্ডারী সংগীত পরিবেশন করেন মাইজভাণ্ডারী মরমী গোষ্ঠীর সিনিয়র সদস্য সৈয়দ জাবের সরওয়ার।