শিরোনামঃ

পাহাড়ি ছড়ার স্রোত:  ছেলের পর দুর্গম খাদ থেকে মায়ের মরদেহ উদ্ধার

রাঙামাটি প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির বন্দুকভাঙ্গায় পাহাড়ি ছড়ায় প্রবল স্রোতে ভেসে নিখোঁজের চার দিন পর বাসনা চাকমা (৩২) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

এর আগে ঘটনার পর দিন তার তিন বছর বয়সী ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের ত্রিপুরাছড়া গ্রামের একটি দুর্গম ঝরনা থেকে বাসনার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

নিহত বাসনা চাকমা একই এলাকার অলঙ্গ পূণ্য চাকমার স্ত্রী।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ছড়া ও ঝরনাগুলোতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। এ সময় জুম থেকে ছড়া ধরে তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বাসনা চাকমা। পথে পানির স্রোত বেড়ে গেলে মা ও ছেলে স্রোতের পানিতে ভেসে যান।

পরদিন স্থানীয়দের তৎপরতায় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে বাসনা চাকমার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয়রা আশপাশের ছড়া, ঝরনা ও পানির প্রবাহের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি পাহাড়ের গভীর খাদের ঝিরিতে তার মরদেহ দেখতে পান।  প্রায় ২০০ ফুট গভীর ওই দুর্গম খাদে গাছের সঙ্গে মরদেহটি আটকে থাকায় স্থানীয়রা সেটি উদ্ধার করতে পারেননি। পরে রাঙামাটি ফায়ার স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বুধবার দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

ফায়ার স্টেশন অফিসার মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম ও পাহাড়ি খাদ হওয়ায় মরদেহ উদ্ধারে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। উদ্ধার শেষে মরদেহ রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL