শিরোনামঃ

ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি: লোহাগাড়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

লোহাগাড়া প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: দৈনিক দেশের কথা
ছবি: দৈনিক দেশের কথা

জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি ও প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক (ইউপি) চেয়ারম্যান মাস্টার শফিকুর রহমান,সাবেক ইউপি সদস্য আবু মুছা ও বর্তমান চৌকিদার আব্দুর রহিমসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলার শুনানি শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে একটি ওয়ারিশ সনদ তৈরি করেন। পরবর্তীতে ওই সনদের ভিত্তিতে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়।

পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য আসামীরা হলেন চরম্বা নোয়ারবিলা এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে আবুল কাসেম,আবদুল মালেকের ছেলে আবু তাহের,মোঃ আবু ছিদ্দিক,মো.দেলোয়ার, মোঃ মামুন ও মঈনুদ্দিন, মৃত কালু মিয়ার ছেলে হামিদ আলী, মৃত মনিরুজ্জামানের ছেলে, মৃত আবদুর রহমানের ছেলে জিল্লুর রহমান।

জানা গেছে,জাল ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের অভিযোগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মামলা করেন উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের নোয়ারবিলা গ্রামের মৃত গোলাম মোহাম্মদের ছেলে মো.নাছির উদ্দীন।

মামলার বাদী অভিযোগ করেন, প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করে জাল ওয়ারিশ সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেই জাল সনদ দিয়ে নামজারি করে আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় আদালত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্য ও চৌকিদারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জনপ্রতিনিধি, সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এবং সুবিধাভোগী পক্ষের সদস্যরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোটেক সাইফুদ্দিন জানান, জাল ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। আদালতের এ আদেশের ফলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুগম হলো।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুলাহ বলেন, বিষয়টি ওয়ারেন্ট অফিসারের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানাতে হবে।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, জাল সনদ তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL