শিরোনামঃ

চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে স্থিতিশীলতার পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি, আশার আলো দেখাচ্ছে সংস্কার ও রেমিট্যান্স

মোহাম্মদ সামির
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: মোহাম্মদ সামির
ছবি: মোহাম্মদ সামির

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপসহ একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার প্রভাবে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়লেও বর্তমানে ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতিও দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় এখনো মূল্যস্ফীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বাজার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি কমেনি।

অন্যদিকে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, অর্থ পাচার এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মুখে রয়েছে। এর ফলে তারল্য সংকট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই খাতে জবাবদিহিতা ও কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতির সামগ্রিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়েও একসময় উদ্বেগ দেখা দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় সতর্ক নীতির কারণে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদ পাচার রোধ ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অর্থনীতিকে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান শক্তি হিসেবে এখনো তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি) এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই দুই খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসা সহজীকরণ, দুর্নীতি দমন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে অর্থনীতিতে আস্থা ফিরে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

সংশ্লিষ্টদের অভিমত, বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সঠিক নীতি, কার্যকর সংস্কার এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ আগামী দিনে একটি আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে সক্ষম হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL