চট্টগ্রামের হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে জায়গা দখলের এক ভয়ংকর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মেখল ইউনিয়নের চারা বটতল এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্টের মুখ দেওয়াল ও মাটি দিয়ে ভরাট করে স্থায়ী দেওয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এর ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কালভার্ট দখলকারীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন সংবাদকর্মীরাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, চারা বটতল এলাকার ছোট ভাঞ্জন ব্রিজ সংলগ্ন অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই কালভার্টটির উত্তর পাশের মুখ ইটের দেওয়াল তুলে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর সেখানে বিপুল পরিমাণ মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র তাদের ব্যক্তি স্বার্থে জনগুরুত্বপূর্ণ এই কালভার্টটির পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মতে, বর্ষা শুরু হলে এই কালভার্ট দিয়ে পানি নামতে না পারলে পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাবে। দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার কারণে মেখল ইউনিয়নের বিশাল একটি অংশ জনদুর্ভোগের শিকার হবে। ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গেলে প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কাজে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন নামে এক যুবক নিজেকে প্রকল্পের মালিকের ভাই পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার করেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে ভিত্তিহীন চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন এবং মারমুখী আচরণ করেন, যা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাহেদ আরমান সাংবাদিকদের জানান, আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিমাপ করেছে। কালভার্টে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সত্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মাটি ও দেওয়াল অপসারণ করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।