হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরও স্বাভাবিক হয়নি আন্তর্জাতিক নৌপথের চিত্র। সর্বশেষ ট্রাফিক তথ্য বলছে, জাহাজ চলাচলে এখনো স্পষ্ট অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে—যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে সতর্কতার সংকেত দিচ্ছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রায় ২০টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রমের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বেশিরভাগই থেমে যায়। কিছু জাহাজ আবার দিক পরিবর্তন করে ফিরে গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম MarineTraffic-এর তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
এই বহরে বিশ্বের অন্যতম বড় শিপিং কোম্পানি CMA CGM পরিচালিত কয়েকটি কনটেইনার জাহাজও ছিল। তবে কেন তারা যাত্রা স্থগিত করল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ঘোষণার পরও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে শিপিং কোম্পানিগুলো পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। বিশেষ করে সমুদ্রপথে মাইন থাকার সম্ভাবনা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বড় ভূমিকা রাখছে সিদ্ধান্তে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব বাণিজ্যিক জাহাজ—এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জাহাজও—প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে এজন্য তাদের Islamic Revolutionary Guard Corps-এর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং নির্ধারিত নিরাপদ রুট অনুসরণ করতে হবে। সামরিক জাহাজের প্রবেশ এখনো নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের শিপিং সংস্থা International Maritime Organization জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটির মতে, শুধু প্রণালি খোলা ঘোষণা করলেই হবে না—নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত হওয়াটাই এখন মূল বিষয়।
অন্যদিকে, সতর্কতার মাঝেও নতুন করে কিছু তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ধীরে ধীরে আস্থা ফিরতে পারে—তবে তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রণালি খোলার ঘোষণায় তেলের দাম কিছুটা কমলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর হুমকিতে বাজারে অস্থিরতা এখনো কাটেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিকতা ফিরতে সময় লাগবে। কারণ এটি শুধু একটি নৌপথ নয়—বরং বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।