বান্দরবানের সীমান্তবর্তী ও দুর্গম উপজেলা আলীকদমকে কেন্দ্র করে লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি সমন্বয়ে দেশের ৬৫তম জেলা হিসেবে "গ্রীন সিটি জেলা" গঠনের একটি কৌশলগত প্রস্তাব সামনে এসেছে। সম্প্রতি আলীকদমকে পরিকল্পিত জেলা হিসেবে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পরিবেশবান্ধব সংগঠন ‘গ্রীন পলিসি মুভমেন্ট’-এর পক্ষ থেকে এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগণের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিবেশ সুরক্ষার তাগিদে এ দাবিকে নীতিগতভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
প্রস্তাবিত জেলা কাঠামোর সম্ভাব্য চার উপজেলা আলীকদম, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচির মোট আয়তন প্রায় ৩,০৪২.০৩ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, এই চার উপজেলার সম্মিলিত জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার ৭৫৬ জন।
ভৌগোলিক দিক থেকে আলীকদম (৮৮৫.৭৮ বর্গকিমি) ও থানচি (১,০২০.৮২ বর্গকিমি) আয়তনে বিশাল ও মিয়ানমার সীমান্ত-সংলগ্ন। অন্যদিকে লামা (১,৩৯,৬৯০ জনসংখ্যা) প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিকভাবে জনবহুল এবং নাইক্ষ্যংছড়ি (৪৬৩.৬০ বর্গকিমি) কক্সবাজার ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।
আলীকদমের প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য কোনো নতুন ধারণা নয়। ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশের অধীনে গজালিয়া ও আলীকদম ইউনিয়ন গঠিত হয়, যার বিশাল সীমানা তৎকালীন লামার অংশকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে লামা পৃথক হয় এবং ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর ৮৮৫.৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে পৃথক ‘আলীকদম থানা’ ও পরে উপজেলা গঠিত হয়।
কেন প্রয়োজন ‘গ্রীন সিটি জেলা’?
আলীকদম প্রেসক্লাব সভাপতি এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, পার্বত্য অঞ্চলের দূরবর্তী জেলা সদরে গিয়ে ভূমি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইনি সেবা নেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। আলীকদম জেলা হলে তা কেবল প্রশাসনিক কেন্দ্র তৈরি করবে না, বরং সীমান্ত এলাকায় রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
তবে "গ্রীন সিটি জেলা" ধারণাকে শুধু অবকাঠামো ও দাপ্তরিক ভবনে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা বন্ধ, ইকো-ট্যুরিজম, ছড়া ও বন সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কম-কার্বন প্রশাসনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এটি একটি মডেল জেলা হতে পারে।
সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব, ভূমি-অধিকার এবং সর্বসাধারণের মতামত বিবেচনা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় পুনর্বিন্যাস সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) পর্যায়ে এটি বিবেচনা করার আগে একটি নিরপেক্ষ ‘আলীকদম জেলা সম্ভাব্যতা ও সীমানা কমিশন’ গঠন এবং এলাকার মানুষের জন্য গণশুনানির আহ্বান জানানো হয়েছে।