একজন শিক্ষক অবসরে যান, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা, আদর্শ আর স্মৃতিগুলো কখনো অবসরে যায় না। দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে উখিয়া ও রামু উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জ্ঞানদানের মহান দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন উখিয়ার রূপপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন।
গত বুধবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিলো এক আবেগঘন পরিবেশ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং স্যারের সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় বিদায় সংবর্ধনা। অনুষ্ঠানে তাঁকে ক্রেস্ট, মানপত্র ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য কার শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বিরল সম্মান জানান উপস্থিত সকলে।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রূপপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি জমির উদ্দীন। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এস এম কামাল উদ্দীন। এছাড়াও উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং সুধীজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম কামাল উদ্দীন বলেন, “সোহরাব হোসেন স্যার দীর্ঘ ৩১ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে অসংখ্য আলোকিত মানুষ গড়ে তুলেছেন। একজন শিক্ষকের বিদায়কে ঘিরে এমন সম্মান ও ভালোবাসা সত্যিই প্রশংসনীয়। আজকের আয়োজন প্রমাণ করে একজন আদর্শ শিক্ষক মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীর স্থান করে নিতে পারেন।”
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত সোহরাব হোসেন বলেন, “একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো তাঁর শিক্ষার্থীদের সাফল্য। আমার অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। তাদের সাফল্যই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমাকে যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন আমাকে বাকি জীবন ঈমান ও আমলের সঙ্গে কাটানোর তাওফিক দান করেন।”
অনুষ্ঠানজুড়ে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল আবেগের ছাপ। কেউ স্মৃতিচারণ করেছেন স্যারের শাসন ও স্নেহের, কেউবা বলেছেন তাঁর কাছ থেকে পাওয়া জীবনের মূল্যবান শিক্ষার কথা।
দিন শেষে কার শোভাযাত্রায় যখন প্রিয় শিক্ষককে বাড়ির পথে বিদায় জানানো হয়, তখন যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে একজন শিক্ষক চাকরি থেকে অবসর নিতে পারেন, কিন্তু তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কোনো অবসর নেই।