সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বহুতল দালান; দেখেও না দেখার ভানধরে কর্তৃপক্ষ। এযেন রক্ষকই ভক্ষক। বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে নানা কানাঘুষা।
অনুসন্ধানে দেখাগেছে, কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলাটি ৯৬ হাজার ২৯ একরের আয়তনের দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপটিতে ১৮ হাজার ৩৩৯.৩০ একর ১২নং মৌজার জায়গা রয়েছে। উক্ত জায়গা উপজেলা প্রশাসন ছাড়া আলাদা বনবিভাগ নিয়ন্ত্রণ করলেও তারা রক্ষার্থে ব্যর্থ। সেখানে গড়ে উঠছে বহুতল দালান। এতে ঐতিহ্যের পাহাড় পর্বত ক্রমান্বয়ে ক্ষয়ের পাশাপাশি পরিবেশের প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। বন্ধ হচ্ছে অবৈধ দখলদারের থাবা! চলছে বহুতল দালান নির্মাণ। এমনদৃশ্যটি চোখে পড়ে উপজেলার হোয়ানক কেরুনতলী বিটের আওতাধীন কালাগাজীর পাড়ার পূর্বপাশে কাঁঠালতলী পাড়াস্থ জায়গায়।
স্থানীয়দের বরাতে জানাগেছে- ব্যয়বহুল বহুতল দালানটি একই ওয়ার্ড পশ্চিমপাড়া থেকে আগত জলিল মিয়ার পুত্র সাহাদত কবিরের নির্মাণাধীন আলীশান প্রবাসীর বাড়ী। ছেলে প্রবাসে থাকলেও ছেলের খালাত ভাই জনৈক প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক এর সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে বহুতল দালানের কাজ করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে নানা কানাঘুষা। তারা জানান- বিটকে টাকা দিলেই সবকিছু অবৈধ! অন্যথায় অবৈধ। এহচ্ছে তাদের নীতি ও নৈতিকতার। এসব জায়গায় বাড়ীঘর নির্মাণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিট অফিসকে মোটাংকের অর্থের বিনিময় ম্যানেজ করে কাজের সূচনা করে।
স্থানীয়রা সচেহন মহল ও পরিবেশবাদীরা জানান- ১২নং মৌজার জায়গায় পাহাড় কেটে সমতল করে পান বরজসহ বিভিন্ন জাতের চাষবাদ করে যাচ্ছে এলাকার প্রতাপশালী এবং বিত্তশালীরা তথা তাদের ছত্রছায়ায়। যারদরূন দিন দিন কমে যাচ্ছে ১২নং মৌজার পাহাড়ি জায়গার আয়তন। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশ নষ্ট এবং জলবায়ুর ব্যাপক প্রভাব পড়ার শঙ্কায় ভোগছেন তাঁরা।
বিষয়টি নিয়ে কেরুনতলী ফরেস্ট বিট কর্মকর্তার সাথে কথা বললে, প্রতিবেদককে তিনি জানান- ইতোমধ্যে তাঁরা বাঁধা দিয়েছেন এবং মামলার প্রক্রিয়াও হাতে নিয়েছেন। অন্যথায় অভিযান পরিচালনা করবেন। তবে সুচিন্তকদের ভাষ্য সরকারের সংরক্ষিত জায়গাগুলি এভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিতে ছেড়ে দেওয়ায় ক্রমন্বয়ে ১২নং পাহাড় মৌজার জায়গাসহ পরিবেশ-প্রতিবেশ, জলবায়ুর ব্যাপক প্রকোপ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। এতে ভৌগলিকবিপর্যয়ে মানবজাত বসবাসের অনুপযোগী হচ্ছে।
মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা
(ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির এর নিকট বিষয়টি জানতে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।