পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটির আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু এবং তাদের পরিবারের পুষ্টিগত অবস্থা, স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা ও সামগ্রিক কল্যাণ উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে দুর্গম ও সেবাবঞ্চিত এলাকায় শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে সরকারি দপ্তর, বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর অংশীদারত্ব জোরদার করা গেলে টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
সভার শুরুতে জাবারাং কল্যাণ সমিতির উপজেলা সমন্বয়কারী উসুইহলা মারমা প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কৌশল ও প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে তথ্যচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।
সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা শিশুদের বাহুর মধ্যভাগের পরিধি পরিমাপের মাধ্যমে অপুষ্টি শনাক্তকরণ, তথ্য সংগ্রহ এবং দুর্গম এলাকায় কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। তাঁরা প্রকল্পের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিনাত আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কামরুল আলমসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি ও কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।