পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রশিক নগর গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ঘর হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। চার সন্তান নিয়ে তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তের মধ্যে জাহানারা বেগমের বসতঘরটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গুড়িয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় ঘরের ভেতর থাকা কোনো আসবাবপত্র ও মালামাল বের করতে পারেননি তিনি। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাহানারা ও চান মিয়া সম্পত্তির ৪ সন্তানের পরিবার। জীবিকার তাগিদে তিনি ফুটপাতে সবজি বিক্রি করে কোনোভাবে দিনাতিপাত করছিলেন। তাদের ছোট্ট ঘরই ছিল একমাত্র আশ্রয়স্থল, যা এখন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
হঠাৎ এই দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জাহানারা বেগম। বর্তমানে তিনি সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের সংকটে পরিবারটি চরম কষ্টে রয়েছে।
জাহানারা বেগম বলেন, “অনেক কষ্ট করে এই ছোট ঘরটি তৈরি করেছিলাম। এখন সবশেষ হয়ে গেছে। ঝড়ের সময় ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় থাকবো, কীভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছি না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা জেনেছি। ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া বলেন, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ঝড়ের সময় অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, ঝড়ের তীব্রতায় ওই এলাকায় আরও কয়েকটি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মানবিক সহায়তা পেলে জাহানারা বেগমের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্তরা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।