চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ‘ছেনী বাবলু’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার সহযোগী মো. জুয়েল রানাকেও আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ইয়াবা, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তথ্যমতে, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম গত ৭ মে জেলায় যোগদানের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় সন্ত্রাস ও অপরাধবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় সন্দ্বীপ থানার একটি বিশেষ অভিযানে মিলাদ হোসেন বাবলু (৩৫) ও মো. জুয়েল রানা (৩৬) গ্রেপ্তার হন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাহের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩টি দেশীয় এলজি, ৪টি কার্তুজ, একটি ছেনি, ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি চাপাতি এবং ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মিলাদ হোসেন বাবলু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তার নামে ২০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পরিচালিত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানা এলাকায় মোট ১৩টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ৯টি মামলায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯২ কেজি গাঁজা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য। এসব ঘটনায় ১৫২টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ১৯৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত ৫টি মামলায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ডাকাতির আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।