শিরোনামঃ

এক মাসের ব্যবধানে ফের তীব্র জলাবদ্ধতা, ৩ ঘণ্টায় ১০৯ মিমি বৃষ্টিতে নাকাল নগরবাসী

রাজু চৌধুরী
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভারী বর্ষণে আবারও তলিয়ে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সোমবার সকালেই নগরীর অধিকাংশ সড়ক ও অলিগলি পানিতে ডুবে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায়ই পড়েছে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিস বলছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে আরও ২-৩ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

টানা বর্ষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চকবাজার, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, ফরিদারপাড়া, আগ্রাবাদ, হালিশহর, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ নালাপাড়া, রিয়াজুদ্দিন বাজার, জামাল খান, বাকলিয়া, নিউ মার্কেট ও কাপাসগোলাসহ নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে। আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারেও পানি জমে যানজটের সৃষ্টি হয়। পানিতে ছোট যানবাহন বিকল হয়ে প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।
আগ্রাবাদের মুহুরিপাড়া এলাকার চিত্রও ছিল একই। সড়কে কোমরসমান পানি জমে থাকায় আবাসিক ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বাসিন্দাদের পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, হিজরা খালের সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না।

দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, "পানির স্রোতের কারণে হাঁটাই যাচ্ছিল না। বাসা থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ৪০ টাকা, কিন্তু জলাবদ্ধতার ১০০ টাকা দিতে হয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের এই অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। মহানগরের বিভিন্ন স্কুলের সামনে ও আশপাশের সড়কে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

পরিবহনসংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সোমবার স্কুলে যেতে পারেনি। কোথাও কোথাও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।


নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ১৪,২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি মেগা প্রকল্প চলমান। কর্তৃপক্ষ দাবি করছে বেশিরভাগ কাজ শেষ। কিন্তু বারবার জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এদিকে জনমনে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, "শুধু খাল খনন করলেই হবে না। খাল-নালা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্থাগুলোর সমন্বয় দরকার।

এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, "সকালের ভারী বৃষ্টি জোয়ারের সাথে একই সময়ে হওয়ায় কিছু এলাকায় পানি জমেছে। আমাদের কর্মীরা ড্রেন পরিষ্কার করছে। বৃষ্টি কমলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।


এদিকে টানা ভারী বৃষ্টিতে রেললাইনে পানি উঠে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুটি শাটল ট্রেন মহানগরের ষোলশহর স্টেশনে আটকে পড়েছিল। পরে পানি কমে যাওয়ায় ট্রেন দুটির চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ষোলশহর স্টেশন ইনচার্জ আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL