শিরোনামঃ

১২ কোটি টাকার গাড়ির অংশবিশেষ এবং যন্ত্রাংশ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে নিয়ে আসা তিনটি বিলাসবহুল গাড়ির অংশবিশেষ এবং বিপুল পরিমাণ খুচরা যন্ত্রাংশ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। 
ইউজড স্পেয়ার পার্টস ঘোষণায় বন্দরে আসা ৪টি গাড়ি, দুইটি গাড়ির যন্ত্রাংশের চালান
এর আড়ালে বিলাসবহুল প্রায় ১২ কোটি টাকার গাড়ি ও পার্টস খালাসের অপচেষ্টা প্রতিরোধ করে
আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিগত ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের এই চালানের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন। 
এই ঘটনার মূল তথ্যগুলো তুলে ধরে বলেন, 
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আসা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, চালানটি আটক করা হয়েছে। 
৪০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনারে ৩ লেয়ারে গাড়িগুলো আনে। কনটেইনারের সামনের দিকে পার্টস দিয়ে সাজানো ছিল।
কন্টেইনারটিতে আলাদাভাবে খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও ভেতরে কেটে বা বিচ্ছিন্ন করে আনা সম্পূর্ণ তিনটি বিলাসবহুল গাড়ির অংশ পাওয়া গেছে। গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে Lexus LX 600, Lexus SC 430 এবং BMW M5। এ ছাড়া সেখানে একটি Honda B18C Type R ইঞ্জিন, হাফ-কাট গাড়ির অংশ এবং চাকার টায়ারসহ প্রচুর মূল্যবান যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, আঞ্চলিক কার্যালয়, চট্টগ্রামের যুগ্ম পরিচালকের নেতৃত্বে একটি নিবারক দল গত ৩১ আগস্ট দুপুর ২টায় অনুসন্ধান করে অসত্য ঘোষণায় আমদানিকৃত Lexus LX 600, Lexus SC 430 BMW M5 গাড়িসহ অন্যান্য গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট খুঁজে পায়। অসত্য ঘোষণায় এই আমদানিতে জড়িত ক্রাউন অটোমোবাইল চক্র। প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং ASYCUDA World-এ দাখিলকৃত ম্যানিফেস্ট ও ওয়েবিল পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস মোংলা কাস্টমস হাউসের ন্যায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দিয়ে "Used Spare Parts of Motor Vehicles and Used/Second Hand Petrol Engine Fitted with Gear Box of Motor Vehicles" ঘোষণায় জাপান থেকে ১টি কনটেইনারে ১৬৭ প্যাকেজে ৮ হাজার ১৮ কেজি পণ্য আমদানি করেছে। প্রকৃতপক্ষে উক্ত পণ্য চালানে Lexus LX 600, Lexus SC 430 BMW M5 গাড়ীসহ, Honda B18C 
বিলাসবহুল গাড়ি ও যন্ত্রাংশগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯.৫ কোটি থেকে ১২ কোটি টাকা।গাড়ি ভেদে ১০৩ থেকে ৬২১ শতাংশ শুল্কযোগ্য।

আরো জানান, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জাপান থেকে ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশ ('Used Spare Parts') হিসেবে এই পণ্যগুলো আমদানি করে। কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাস পার হয়ে গেলেও কোনো 'বিল অব এন্ট্রি' দাখিল করা হয়নি ফলে 
নিলামে চলে যায়।
চক্রটি শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পণ্যগুলো বন্দরের নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অল্প মূল্যে খালাস করার চেষ্টা করছিল, যা শুল্ক গোয়েন্দারা নসাৎ করে দেয়। বর্তমানে শুল্ক গোয়েন্দারা এই ঘটনার সাথে মানি লন্ডারিং বা কোনো ধরনের মুদ্রা পাচারের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কাস্টমস অ্যাক্ট অনুযায়ী বিস্তারিত তদন্ত করছেন ।
আমদানিকারক বা কেউ নিতে চাইলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে শুল্ককর জরিমানা দিতে হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL